ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 27

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর-টেবিলে উপস্থাপনকালে এক প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানান তিনি।

এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩৬টি পুশইন চেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা (ফেরত পাঠানো) হয়েছে।

এ সময় সীমান্ত হত্যা, পুশইন বন্ধসহ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবির নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুশইন ও চোরাকারবারিদের রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে মামলাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল ওয়েপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি নিয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর-টেবিলে উপস্থাপনকালে এক প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানান তিনি।

এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩৬টি পুশইন চেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা (ফেরত পাঠানো) হয়েছে।

এ সময় সীমান্ত হত্যা, পুশইন বন্ধসহ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবির নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুশইন ও চোরাকারবারিদের রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে মামলাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল ওয়েপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি নিয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।