ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘খামেনির মৃত্যু ইরানকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 12

প্রতিরক্ষা কাউন্সিলে ইসলামি বিপ্লবের নেতার প্রতিনিধি বলেছেন, ইরানের শহীদ নেতার পবিত্র রক্ত এক শক্তিশালী গণজাগরণের সূচনা করেছে। এটি জাতির কাঁধে বৃহত্তর দায়িত্ব অর্পণের পাশাপাশি যেকোনো অপমান ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে আলি আকবর আহমাদিয়ান তুলে ধরেন কীভাবে এই শাহাদাত ইরানি জাতিকে বশ্যতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

বিবৃতিতে আহমাদিয়ান বলেন, আজ ইরানের শহীদ নেতা নিজেই ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং নিজের রক্ত দিয়ে সবার জন্য প্রমাণ সম্পন্ন করেছেন। তিনি সবার কাঁধে আগের চেয়ে আরও ভারী দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। শহীদের এই টগবগে রক্ত এক বিশাল গণজাগরণের জন্ম দিয়েছে, যেখানে ইরানিরা একবাক্যে বলে উঠেছে যে, তারা কোনোভাবেই অপমান মেনে নেবে না। ইরানি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা করেন, তারা শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তাদের অঙ্গীকারে অটল থাকবেন এবং যারা তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করবে তাদের জন্য শান্তি, আর যারা যুদ্ধ করবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।

ইতিমধ্যেই পুরো ইরানজুড়ে মানুষ প্রতিরোধের স্লোগান দিয়ে এবং আরও বেশি দৃঢ়তার সাথে শহীদদের পথ অনুসরণ করার অঙ্গীকার নিয়ে ব্যাপক ঐক্যের প্রদর্শনীতে রাস্তায় নেমে এসেছে। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের শাহাদাত একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণকে সংগঠিত করে এবং প্রতিপক্ষকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, শহীদদের রক্তই প্রতিরোধকে শক্তি জোগায় এবং অহংকার ও নিপীড়নের ওপর সত্যের বিজয় নিশ্চিত করে। মূলত সব ধরনের বিদেশি হুমকি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং পবিত্র মূল্যবোধ রক্ষায় ইরানি জাতি অবিচল রয়েছে।

অন্যদিকে রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির নেতৃত্বে অর্জিত সামরিক শক্তির ওপর ভিত্তি করেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের উদ্বোধনী দিনে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে এক হামলায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি নিহত হন। এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানি কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে, তাদের নেতার এই হত্যাকাণ্ডের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। সূত্র: প্রেস টিভি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘খামেনির মৃত্যু ইরানকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে’

আপডেট সময় : ০২:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

প্রতিরক্ষা কাউন্সিলে ইসলামি বিপ্লবের নেতার প্রতিনিধি বলেছেন, ইরানের শহীদ নেতার পবিত্র রক্ত এক শক্তিশালী গণজাগরণের সূচনা করেছে। এটি জাতির কাঁধে বৃহত্তর দায়িত্ব অর্পণের পাশাপাশি যেকোনো অপমান ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে আলি আকবর আহমাদিয়ান তুলে ধরেন কীভাবে এই শাহাদাত ইরানি জাতিকে বশ্যতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

বিবৃতিতে আহমাদিয়ান বলেন, আজ ইরানের শহীদ নেতা নিজেই ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং নিজের রক্ত দিয়ে সবার জন্য প্রমাণ সম্পন্ন করেছেন। তিনি সবার কাঁধে আগের চেয়ে আরও ভারী দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। শহীদের এই টগবগে রক্ত এক বিশাল গণজাগরণের জন্ম দিয়েছে, যেখানে ইরানিরা একবাক্যে বলে উঠেছে যে, তারা কোনোভাবেই অপমান মেনে নেবে না। ইরানি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা করেন, তারা শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তাদের অঙ্গীকারে অটল থাকবেন এবং যারা তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করবে তাদের জন্য শান্তি, আর যারা যুদ্ধ করবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।

ইতিমধ্যেই পুরো ইরানজুড়ে মানুষ প্রতিরোধের স্লোগান দিয়ে এবং আরও বেশি দৃঢ়তার সাথে শহীদদের পথ অনুসরণ করার অঙ্গীকার নিয়ে ব্যাপক ঐক্যের প্রদর্শনীতে রাস্তায় নেমে এসেছে। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের শাহাদাত একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণকে সংগঠিত করে এবং প্রতিপক্ষকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, শহীদদের রক্তই প্রতিরোধকে শক্তি জোগায় এবং অহংকার ও নিপীড়নের ওপর সত্যের বিজয় নিশ্চিত করে। মূলত সব ধরনের বিদেশি হুমকি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং পবিত্র মূল্যবোধ রক্ষায় ইরানি জাতি অবিচল রয়েছে।

অন্যদিকে রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির নেতৃত্বে অর্জিত সামরিক শক্তির ওপর ভিত্তি করেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের উদ্বোধনী দিনে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে এক হামলায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি নিহত হন। এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানি কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে, তাদের নেতার এই হত্যাকাণ্ডের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। সূত্র: প্রেস টিভি