ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এরই জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে সিউল জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই মহড়া চলবে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে’ দেবে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইরানের ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ট্রাম্প লেখেন, এসব সামরিক মহড়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়—এর বড় অংশের খরচ বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। একই সঙ্গে এসব মহড়া এমন একটি বার্তা দেয়, যা ‘পুরোপুরি অনুপযুক্ত ও বৈরী’।

তবে সিউল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘সূচি অনুযায়ীই’ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি পিয়ংইয়ং। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসে উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর এই পরিস্থিতি তৈরি হলো।

ট্রাম্প রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া সোমবার (১৭ আগস্ট) শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন এটি বাতিল করার সময় নেই। তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি কিছুটা সম্পর্কহীন (?) হলেও সম্প্রতি আমি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চান কি না। তারা বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ!’’

ট্রাম্পের এই ঘোষণা দেয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে তিনি ২০১৮ সালে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেছিলেন। ছবিটিতে দুজনের মুখভঙ্গি কিছুটা কঠোর হলেও ট্রাম্প লিখেছিলেন, তারা ‘দারুণ বন্ধু’।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেন। তারা জানান, ১১ দিনের এই মহড়া আগের বছরগুলোর মতোই বড় পরিসরে হবে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রায়ান ডোনাল্ড বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা উত্তর কোরীয় সেনাদের সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় রেখেই তাদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার নিন্দা করে এটিকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ বলে আখ্যা দেয়। এর কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা শনাক্ত করে। কয়েক দিনের মধ্যে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

২০১৯ সালে ট্রাম্প নিজের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিলেন। সেই আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।

সাত বছর আগে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় ট্রাম্প দেশটির মাটিতে পা রাখা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অনীহার কারণে সিউলের ওপর ট্রাম্প হতাশ হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তার মন্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য মিত্র দেশও ইরান সংঘাতে যুক্ত হতে অনীহা দেখানোয় ট্রাম্প তাদের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা চলার সময় ট্রাম্প এসব মহড়া পুরোপুরি স্থগিত করেছিলেন। এরপর ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছিল।

এদিকে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। দুই কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হয়নি। তাই ওই যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০১:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এরই জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে সিউল জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই মহড়া চলবে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে’ দেবে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইরানের ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ট্রাম্প লেখেন, এসব সামরিক মহড়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়—এর বড় অংশের খরচ বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। একই সঙ্গে এসব মহড়া এমন একটি বার্তা দেয়, যা ‘পুরোপুরি অনুপযুক্ত ও বৈরী’।

তবে সিউল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘সূচি অনুযায়ীই’ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি পিয়ংইয়ং। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসে উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর এই পরিস্থিতি তৈরি হলো।

ট্রাম্প রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া সোমবার (১৭ আগস্ট) শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন এটি বাতিল করার সময় নেই। তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি কিছুটা সম্পর্কহীন (?) হলেও সম্প্রতি আমি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চান কি না। তারা বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ!’’

ট্রাম্পের এই ঘোষণা দেয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে তিনি ২০১৮ সালে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেছিলেন। ছবিটিতে দুজনের মুখভঙ্গি কিছুটা কঠোর হলেও ট্রাম্প লিখেছিলেন, তারা ‘দারুণ বন্ধু’।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেন। তারা জানান, ১১ দিনের এই মহড়া আগের বছরগুলোর মতোই বড় পরিসরে হবে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রায়ান ডোনাল্ড বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা উত্তর কোরীয় সেনাদের সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় রেখেই তাদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার নিন্দা করে এটিকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ বলে আখ্যা দেয়। এর কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা শনাক্ত করে। কয়েক দিনের মধ্যে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

২০১৯ সালে ট্রাম্প নিজের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিলেন। সেই আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।

সাত বছর আগে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় ট্রাম্প দেশটির মাটিতে পা রাখা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অনীহার কারণে সিউলের ওপর ট্রাম্প হতাশ হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তার মন্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য মিত্র দেশও ইরান সংঘাতে যুক্ত হতে অনীহা দেখানোয় ট্রাম্প তাদের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা চলার সময় ট্রাম্প এসব মহড়া পুরোপুরি স্থগিত করেছিলেন। এরপর ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছিল।

এদিকে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। দুই কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হয়নি। তাই ওই যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।