ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসান মাহমুদকে প্রশংসায় ভাসালেন ওয়াসিম আকরাম

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 13

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ খেলেছে পুরো দলীয় শক্তির ওপর ভর করে। ব্যাটে-বলে কিংবা ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দারুণ সব নৈপুণ্যে অজিদের চেপে ধরতে সবাই এক হয়েই লড়েছে। তবে হাসান মাহমুদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। এই তরুণ পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়েই তো শুরুতেই প্যাট কামিন্সদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ঘোল খাওয়ানো এই পেসারের বন্দনায় এখন মেতে উঠেছেন বিশ্বের অনেক ক্রিকেট কিংবদন্তিরা।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ দলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। দীর্ঘ ফরম্যাটে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের এই অগ্রগতি এবং পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন তিনি।

এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক বার্তায় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানান আকরাম। তিনি বলেন, এই জয় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এবং এই ফরম্যাটের প্রতি তাদের বাড়তি মনোযোগেরই প্রতিফলন।

ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের কী এক মহাকাব্যিক জয়! এই জয় বুঝিয়ে দেয় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করেছে এবং তাদের অগ্রাধিকার কোথায়।’

বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় ৯ উইকেটের জয়ে উদ্বোধনী ব্যাটার তানজিদ হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন ওয়াসিম আকরাম। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকান তানজিদ। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ ছিলেন অত্যন্ত ডিসিপ্লিনড ও নির্ভুল; নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন। অতিরিক্ত কোনো বৈচিত্র্যের সাহায্য না নিয়েও হাসান যেভাবে নিখুঁত টেস্ট লেংথে বল করে গেছেন, তা বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে আকরামকে।

হাসান মাহমুদকে নিয়ে আকরাম আরও বলেন, ‘প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দিয়েছে, যার মধ্যে ওপেনার তানজিদ দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছে। আমি হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে খুব মুগ্ধ হয়েছি। সে চমৎকার লেংথে বল করেছে—অসাধারণ কিছু নয়, তবে সেটি ছিল একদম খাঁটি টেস্ট লেংথ এবং বোলিং।’

ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে ১৭ ওভারে ৫৫ রান খরচ করে ৬টি উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ, আর তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন দুটি করে উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে পেসারদের চেয়ে স্পিনারদের খানিকটা আধিপত্য থাকলেও হাসান মাহমুদ নেন আরও ৩টি উইকেট। ম্যাচে তাঁর মোট উইকেট দাঁড়ায় ৯টিতে। ৩৩.১ ওভারে ৬৬ রান খরচ করে ৫টি উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসান মাহমুদকে প্রশংসায় ভাসালেন ওয়াসিম আকরাম

আপডেট সময় : ০১:১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ খেলেছে পুরো দলীয় শক্তির ওপর ভর করে। ব্যাটে-বলে কিংবা ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দারুণ সব নৈপুণ্যে অজিদের চেপে ধরতে সবাই এক হয়েই লড়েছে। তবে হাসান মাহমুদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। এই তরুণ পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়েই তো শুরুতেই প্যাট কামিন্সদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ঘোল খাওয়ানো এই পেসারের বন্দনায় এখন মেতে উঠেছেন বিশ্বের অনেক ক্রিকেট কিংবদন্তিরা।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ দলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। দীর্ঘ ফরম্যাটে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের এই অগ্রগতি এবং পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন তিনি।

এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক বার্তায় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানান আকরাম। তিনি বলেন, এই জয় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এবং এই ফরম্যাটের প্রতি তাদের বাড়তি মনোযোগেরই প্রতিফলন।

ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের কী এক মহাকাব্যিক জয়! এই জয় বুঝিয়ে দেয় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করেছে এবং তাদের অগ্রাধিকার কোথায়।’

বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় ৯ উইকেটের জয়ে উদ্বোধনী ব্যাটার তানজিদ হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন ওয়াসিম আকরাম। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকান তানজিদ। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ ছিলেন অত্যন্ত ডিসিপ্লিনড ও নির্ভুল; নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন। অতিরিক্ত কোনো বৈচিত্র্যের সাহায্য না নিয়েও হাসান যেভাবে নিখুঁত টেস্ট লেংথে বল করে গেছেন, তা বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে আকরামকে।

হাসান মাহমুদকে নিয়ে আকরাম আরও বলেন, ‘প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দিয়েছে, যার মধ্যে ওপেনার তানজিদ দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছে। আমি হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে খুব মুগ্ধ হয়েছি। সে চমৎকার লেংথে বল করেছে—অসাধারণ কিছু নয়, তবে সেটি ছিল একদম খাঁটি টেস্ট লেংথ এবং বোলিং।’

ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে ১৭ ওভারে ৫৫ রান খরচ করে ৬টি উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ, আর তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন দুটি করে উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে পেসারদের চেয়ে স্পিনারদের খানিকটা আধিপত্য থাকলেও হাসান মাহমুদ নেন আরও ৩টি উইকেট। ম্যাচে তাঁর মোট উইকেট দাঁড়ায় ৯টিতে। ৩৩.১ ওভারে ৬৬ রান খরচ করে ৫টি উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।