শরিফুলের বিরল রেকর্ড, ৬৪ রানে শেষ বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
একাদশে ফেরার ম্যাচে বল হাতে নেওয়ার আগে ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়লেন শরিফুল ইসলাম। তবে রেকর্ড হয়তো নিশ্চিতভাবেই করতে চাননি তিনি। কারণ তার নিজের জন্য ইতিবাচক হলেও, দলের জন্য সার্বিক দিক থেকে বিব্রতকর এই রেকর্ড।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সবার পরে অর্থাৎ ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছেন শরিফুল ইসলাম।
টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান করার ঘটনা এটিই প্রথম। টেস্ট ইতিহাসে ১৩তম বারের মতো ১১ নম্বরে নামা কোনো ব্যাটার করলেন দলের সর্বোচ্চ রান। শরিফুলের ১৪ রানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ৯ নম্বরে নামা তাইজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এর আগে এমন রেকর্ডে উঠেছে শুধু তালহা জুবাইরের নাম। ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ১২৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেদিন ১১ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছিলেন তালহা।
নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোরের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারালেও, শেষ উইকেটে তাইজুল ও শরিফুলের ২৫ রানের জুটিতেই মূলত আগের তিন সর্বনিম্ন স্কোর টপকায় বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তারা অলআউট হয়েছিল ৪৩ রানে। মনে হচ্ছিল, সেটিও এবার ভেঙে যাবে। তবে তাইজুল ও শরিফুল ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি গড়লে ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা ৫৩ ও ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ৬২ টপকায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মূল কারিগর মিচেল স্টার্ক। এক পর্যায়ে মাত্র ২২ বলে ৫ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি পেসার শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ মাত্র ১২ রানে নিয়েছেন ৬টি উইকেট।
রৌদ্রজ্জ্বল সকালে ম্যাকাইয়ের অভিষেক টেস্টে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। স্টার্কের চমৎকার ডেলিভারিতে গালিতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। সেখান থেকেই যেন ঠিক হয়ে যায় ইনিংসের বাকি গতিপথ।
টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলে আউট হওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার সাদমান। এর আগে তিনবার টেস্টের প্রথম বলে আউট হয়েছেন সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার। আর ওই তিনবারই তাকে আউট করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি পেসার পেদ্রো কলিন্স।
এ নিয়ে চারবার টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নিলেন স্টার্ক। এই রেকর্ডে জেমস অ্যান্ডারসনকে (৩) টপকে গেছেন তিনি। আর সব মিলিয়ে ৯ বার টেস্ট ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেট নিলেন স্টার্ক। এই রেকর্ডেও অ্যান্ডারসনকে (৮) ছাড়িয়েছেন তিনি।
স্টার্কের পরের ওভারে জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তানজিদ হাসান তামিম ও চার নম্বরে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এলবিডব্লিউতে রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে কপাল পোড়ে শান্তর।
ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটারের তিনজনের শূন্য রানে আউট হওয়ার তৃতীয় ঘটনা এটি। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট ও ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে প্রথম চার ব্যাটারের তিনজন ফিরে গিয়েছিলেন খালি হাতে।
এছাড়া দুই ওপেনারের শূন্য রানে আউট হওয়ার চতুর্থ ঘটনা এটি। ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস, ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিম ও শামসুর রহমান এবং ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম ও মাহমুদুল হাসান জয় ফিরেছিলেন শূন্য রানে।
নিজের পরের দুই ওভারে মুমিনুল হক ও লিটন কুমার দাসকে ফেরান স্টার্ক। তানজিদ তামিমের মতোই আলগা শটে স্লিপে ক্যাচ দেন মুমিনুল। আর আম্পায়ার লিটনকে নট আউট দিলে, রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত পক্ষে পায় অস্ট্রেলিয়া।
রানের খাতা খোলার আগেই লিটনকে আউট করে মাত্র ২২ বলে ১০৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৯তম ৫ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক। ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
পরে মুশফিকুর রহিম বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্যাট কামিন্সের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হন অভিজ্ঞ ব্যাটার। মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে হাসান মাহমুদকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজন মিলে ৫৫ বলে যোগ করেন ১৫ রান। প্রথম সেশনের বাকি ৪৫ বলে আর উইকেট পড়তে দেননি মিরাজ ও হাসান।
তবে লাঞ্চ বিরতির পর ফিরে আর টিকতে পারেননি দুই ব্যাটার। কামিন্সের বলে দূর থেকে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫১ বল খেলা মিরাজ (১১)। পরের ওভারে জশ হেজেলউডের বলে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন ৩৬ বলে ১০ রান করা হাসান।
এরপর তাসকিন আহমেদ বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিলে মাত্র ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সেখান থেকেই শুরু হয়ে তাইজুল ও শরিফুলের প্রতিরোধ। তাদের ২৫ রানের জুটিতেই সর্বনিম্ন পেরিয়ে ৬৪ পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ।
























চিনির চেয়ে কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি টাকা