নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 3
নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।
সোমবার নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে সীমিত করা। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ধরনের নিষেধাজ্ঞা এখনই আরোপ করা হয়নি।
বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে কোন কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তা কবে থেকে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এর আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে তালিকায় চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান রাখা হয়নি। চীন ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে গুরুত্ব দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এখন আর অন্য দেশগুলো সহজে বিশ্বাস করে না। ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররাও মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের অর্থমন্ত্রী মাদানিজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এসব মোকাবিলায় তেহরানের নিজস্ব ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এর আগে নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জ্বালানি সরবরাহের পথগুলোতে আঘাত করা হতে পারে।
এতে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে আরও চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদার মার্কিন চাপ কীভাবে মোকাবিলা করে, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।




















রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান কানাডার