রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান কানাডার
- আপডেট সময় : ০২:০০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর অভিযানের নবম বার্ষিকীতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কানাডা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মিয়ানমারে কানাডার দূতাবাস এবং বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশন এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানের পর প্রায় সাত হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হন। একই সময়ে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে পরিণত হয়েছে।
কানাডার হিসাবে, অঞ্চলজুড়ে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
কানাডা জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যসহ পুরো মিয়ানমারে মানবাধিকার ও মানবিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সংঘাত বৃদ্ধি, বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর জোরপূর্বক শ্রম ও নিয়োগের ঘটনাও ঘটছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কানাডা বলেছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। রোহিঙ্গারা এখনো রাষ্ট্রহীন এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ছয় হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ পথে মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের চলাচলের ক্ষেত্রে বছরটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়গুলোর একটি। জীবিকা নির্বাহের সুযোগ কমে যাওয়া, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার কারণে এ ধরনের অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ছে বলে জানিয়েছে কানাডা।
২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কানাডা ৭০০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে কানাডা।
বিবৃতিতে মিয়ানমারের সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ, দেশজুড়ে অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিয়ানমার সংকট সমাধানে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা, পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছে কানাডা।
একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে দেশটি।
বিবৃতির শেষে কানাডা জীবিত রোহিঙ্গা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মতামত ও কণ্ঠকে গুরুত্ব দিতে হবে।






















রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে সৌদি বাদশাহর অভিনন্দন