ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

দুর্নীতির মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইকুয়েডরের একটি আদালত মোরেনোর বিরুদ্ধে এ রায় দেন। খবর আল-জাজিরার।

মোরেনোর বয়স ৭৩ বছর। তাঁর সঙ্গে মামলায় স্ত্রী, মেয়ে, দুই ভাই, ভাবি এবং ইকুয়েডরে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইকুয়েডরের বিতর্কিত ‘কোকা-কোডো সিনক্লেয়ার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছিল।

২০১৬ সালে চালু হওয়া প্রকল্পটির নির্মাণে যুক্ত ছিল চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, সরাসরি অর্থ লেনদেন করা হয়নি। বিভিন্ন ভুয়া পরামর্শক চুক্তি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব এবং করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে নিবন্ধিত ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সরানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় মোরেনো ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই ঘুষের অর্থ থেকে অন্তত ১০ লাখ ডলার পেয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল ক্যাব্রেরা বলেন, মোরেনোর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় মোরেনোর স্ত্রী, মেয়ে, দুই ভাই ও ভাবিকে দুই বছর ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোরেনো। শুরু থেকেই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্যারাগুয়ে থেকে দেশে ফেরেন সাবেক এই নেতা। আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

মোরেনোর দাবি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির চুক্তি বা তদারকির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আদালত তাঁর দাবি আমলে নেননি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের পথও তাঁর জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্নীতির মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইকুয়েডরের একটি আদালত মোরেনোর বিরুদ্ধে এ রায় দেন। খবর আল-জাজিরার।

মোরেনোর বয়স ৭৩ বছর। তাঁর সঙ্গে মামলায় স্ত্রী, মেয়ে, দুই ভাই, ভাবি এবং ইকুয়েডরে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইকুয়েডরের বিতর্কিত ‘কোকা-কোডো সিনক্লেয়ার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছিল।

২০১৬ সালে চালু হওয়া প্রকল্পটির নির্মাণে যুক্ত ছিল চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, সরাসরি অর্থ লেনদেন করা হয়নি। বিভিন্ন ভুয়া পরামর্শক চুক্তি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব এবং করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে নিবন্ধিত ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সরানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় মোরেনো ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই ঘুষের অর্থ থেকে অন্তত ১০ লাখ ডলার পেয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল ক্যাব্রেরা বলেন, মোরেনোর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় মোরেনোর স্ত্রী, মেয়ে, দুই ভাই ও ভাবিকে দুই বছর ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোরেনো। শুরু থেকেই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্যারাগুয়ে থেকে দেশে ফেরেন সাবেক এই নেতা। আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

মোরেনোর দাবি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির চুক্তি বা তদারকির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আদালত তাঁর দাবি আমলে নেননি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের পথও তাঁর জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।