ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইমরানকে ছেড়ে দিন’, কাঁদতে কাঁদতে বললেন মিয়াঁদাদ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

জাতীয় দলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। সাবেক সতীর্থকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনদের প্রতি মিয়াঁদাদের আহ্বান, আলোচনায় বসে ইমরানকে ঘিরে চলমান সমস্যার সমাধান করা হোক।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরই মধ্যে তার মুক্তির দাবিতে ক্রিকেট বিশ্বের সাবেক তারকারা কথা বলেছেন। এবার সেই দাবিতে সরব হলেন মিয়াঁদাদও।

ন্যারেটিভস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ প্রশ্ন তোলেন, ‘কেউ আমাকে এটা বুঝিয়ে বলুন। ইমরান কি পাকিস্তানকে গিলে খাবে?’

ইমরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মিয়াঁদাদ। কাউন্টি ক্রিকেটে একসঙ্গে খেলার স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে।

“ইমরান আর আমি একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। ইংল্যান্ডে ছয় মাস একসঙ্গে থেকেছি। একসঙ্গে খেয়েছি, সময় কাটিয়েছি। পরে পাকিস্তান দলেও একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছ থেকে তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল।”

ক্রিকেট থেকে অবসরের পর অবশ্য তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। ইমরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্মকাণ্ড নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন মিয়াঁদাদ।

তবে সাবেক সতীর্থের বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কষ্ট দিচ্ছে। পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘সবাইকে বসতে হবে এবং বিষয়টির সমাধান করতে হবে। সমস্যা যা-ই থাকুক, পাকিস্তানের জন্য সেটিই এখন দরকার। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।’
এরপরই ইমরানকে নিয়ে আবেগের কথা বলেন মিয়াঁদাদ।

“সেও তো কারও সন্তান। প্রায়ই আমার মনে হয়, মানুষটা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে! আমরা খুব কাছের ছিলাম। একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি, সময় কাটিয়েছি, একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম। একসঙ্গে আমরা পাকিস্তানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি।”

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ে ইমরান ও মিয়াঁদাদের অবদান পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েছিলেন ১৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান।

ইমরানকে ‘জাতীয় বীর’ উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা ভুলই। সে অবশ্যই একজন জাতীয় বীর। আমি প্রার্থনা করি, এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছে আমার আবেদন।’

এরপর ইমরানকে নিজের পরিচিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমি ইমরানকে সবদিক থেকেই চিনি। সে একজন সৎ মানুষ।’

কথা বলতে বলতে চোখে পানি চলে আসে তার। মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমার প্রার্থনা, ন্যায়সংগত বিষয়টির জয় হোক। আমি যা বলছি, হৃদয় থেকেই বলছি।’

সব মতপার্থক্য ভুলে পাকিস্তানের স্বার্থে এক হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

“আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমরা সবাই পাকিস্তানের পতাকা বহন করেছি। অন্য সব পার্থক্য এখন শেষ হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের দিক থেকে সে কারও চেয়ে কম নয়।”

ইমরানের কিছু হলে পাকিস্তানজুড়ে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

“সৃষ্টিকর্তা না করুন, তাঁর কিছু হলে দেশে কী ঘটবে, তা কি কল্পনা করতে পারেন? পুরো পাকিস্তান কাঁদবে।”

শেষে সাবেক সতীর্থের জন্য আবারও আবেদন জানান মিয়াঁদাদ, ‘সে পাকিস্তানের জন্য নিজের সময় ও সবকিছু দিয়েছে। সে একজন অসাধারণ ক্রিকেট কিংবদন্তি। বিষয়টির সমাধান করুন।’

ইমরানকে নিজের ভাইয়ের মতো উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমিও মানুষ। সে আমার ভাইয়ের মতো।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ইমরানকে ছেড়ে দিন’, কাঁদতে কাঁদতে বললেন মিয়াঁদাদ

আপডেট সময় : ০২:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় দলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। সাবেক সতীর্থকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনদের প্রতি মিয়াঁদাদের আহ্বান, আলোচনায় বসে ইমরানকে ঘিরে চলমান সমস্যার সমাধান করা হোক।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরই মধ্যে তার মুক্তির দাবিতে ক্রিকেট বিশ্বের সাবেক তারকারা কথা বলেছেন। এবার সেই দাবিতে সরব হলেন মিয়াঁদাদও।

ন্যারেটিভস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ প্রশ্ন তোলেন, ‘কেউ আমাকে এটা বুঝিয়ে বলুন। ইমরান কি পাকিস্তানকে গিলে খাবে?’

ইমরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মিয়াঁদাদ। কাউন্টি ক্রিকেটে একসঙ্গে খেলার স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে।

“ইমরান আর আমি একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। ইংল্যান্ডে ছয় মাস একসঙ্গে থেকেছি। একসঙ্গে খেয়েছি, সময় কাটিয়েছি। পরে পাকিস্তান দলেও একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছ থেকে তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল।”

ক্রিকেট থেকে অবসরের পর অবশ্য তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। ইমরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্মকাণ্ড নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন মিয়াঁদাদ।

তবে সাবেক সতীর্থের বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কষ্ট দিচ্ছে। পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘সবাইকে বসতে হবে এবং বিষয়টির সমাধান করতে হবে। সমস্যা যা-ই থাকুক, পাকিস্তানের জন্য সেটিই এখন দরকার। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।’
এরপরই ইমরানকে নিয়ে আবেগের কথা বলেন মিয়াঁদাদ।

“সেও তো কারও সন্তান। প্রায়ই আমার মনে হয়, মানুষটা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে! আমরা খুব কাছের ছিলাম। একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি, সময় কাটিয়েছি, একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম। একসঙ্গে আমরা পাকিস্তানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি।”

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ে ইমরান ও মিয়াঁদাদের অবদান পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েছিলেন ১৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান।

ইমরানকে ‘জাতীয় বীর’ উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা ভুলই। সে অবশ্যই একজন জাতীয় বীর। আমি প্রার্থনা করি, এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছে আমার আবেদন।’

এরপর ইমরানকে নিজের পরিচিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমি ইমরানকে সবদিক থেকেই চিনি। সে একজন সৎ মানুষ।’

কথা বলতে বলতে চোখে পানি চলে আসে তার। মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমার প্রার্থনা, ন্যায়সংগত বিষয়টির জয় হোক। আমি যা বলছি, হৃদয় থেকেই বলছি।’

সব মতপার্থক্য ভুলে পাকিস্তানের স্বার্থে এক হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

“আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমরা সবাই পাকিস্তানের পতাকা বহন করেছি। অন্য সব পার্থক্য এখন শেষ হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের দিক থেকে সে কারও চেয়ে কম নয়।”

ইমরানের কিছু হলে পাকিস্তানজুড়ে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

“সৃষ্টিকর্তা না করুন, তাঁর কিছু হলে দেশে কী ঘটবে, তা কি কল্পনা করতে পারেন? পুরো পাকিস্তান কাঁদবে।”

শেষে সাবেক সতীর্থের জন্য আবারও আবেদন জানান মিয়াঁদাদ, ‘সে পাকিস্তানের জন্য নিজের সময় ও সবকিছু দিয়েছে। সে একজন অসাধারণ ক্রিকেট কিংবদন্তি। বিষয়টির সমাধান করুন।’

ইমরানকে নিজের ভাইয়ের মতো উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমিও মানুষ। সে আমার ভাইয়ের মতো।’