ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ফাঁসিতে ঝুললেন ২০ আফগান, কারণ জানলে চমকে উঠবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 9

ইরানের বিভিন্ন কারাগারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ছিল।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মানবাধিকার সংস্থা ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের (আইএইচআর) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আফগান সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস।

আইএইচআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রতি মাসেই ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে অন্তত তিনজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, অনেক মামলায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। অভিযুক্তদের আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যদেরও মামলা ও তাঁদের অবস্থার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য জানানো হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবাত কারাগার, ইয়াজদ কারাগার ও ইসফাহানের দাস্তগার্ড কারাগারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে।

ইসফাহানের আলিখানি স্কয়ারে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গুল মোহাম্মদ ও কাইম হোসেনি নামে দুই আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে আফসার শাহ-আহমাদি, সাফাই ও সদরুদ্দিন আহমেদাজাদ নামে আরও তিন আফগান নাগরিককে একটি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আইএইচআর বলেছে, এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে চলতি বছরে ঠিক কতজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন।

এর আগে ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে ফাঁসিতে ঝুললেন ২০ আফগান, কারণ জানলে চমকে উঠবেন

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিভিন্ন কারাগারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ছিল।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মানবাধিকার সংস্থা ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের (আইএইচআর) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আফগান সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস।

আইএইচআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রতি মাসেই ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে অন্তত তিনজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, অনেক মামলায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। অভিযুক্তদের আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যদেরও মামলা ও তাঁদের অবস্থার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য জানানো হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবাত কারাগার, ইয়াজদ কারাগার ও ইসফাহানের দাস্তগার্ড কারাগারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে।

ইসফাহানের আলিখানি স্কয়ারে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গুল মোহাম্মদ ও কাইম হোসেনি নামে দুই আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে আফসার শাহ-আহমাদি, সাফাই ও সদরুদ্দিন আহমেদাজাদ নামে আরও তিন আফগান নাগরিককে একটি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আইএইচআর বলেছে, এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে চলতি বছরে ঠিক কতজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন।

এর আগে ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।