শিগগিরই চীনের সঙ্গে তৃতীয় এফএসআরইউ চুক্তি
- আপডেট সময় : ১১:০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
ল-ফার্মের মতামত পেলেই চীনের সঙ্গে তৃতীয় এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করবে পেট্রোবাংলা। বিদ্যমান দুই এফএসআরইউ’র মালিকানা বাংলাদেশের থাকলেও নতুনটি হচ্ছে ভাড়া ভিত্তিক।
জিটুজি ভিত্তিতে কাজটি পেতে যাচ্ছে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিএনইই)। ১৫ বছর পরিচালনার পর ফেরত নিয়ে যাবে (যাকে বিওও বলা হয়)। আর আগের দুই এফএসআরইউ ১৫ বছর পর হস্তান্তর করে চলে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (যাকে বিওটি বলা হয়)।
পেট্রোবাংলার যুক্তি হচ্ছে ভাড়া ভিত্তিতে নেওয়ায় খরচ খানিকটা কমে আসবে। এতে পুরোপুরি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে না। আর দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে জিটুজি ভিত্তিতে হবে। তবে দামের বিষয়ে কেউই মুখ খুলছেন না এখনও।
আইনগত জটিলতা এড়াতে চতুর্থ এফএসআরইউ বলা হলেও বাস্তবে, এটি হচ্ছে তৃতীয় এফএসআরইউ। বহুল আলোচিত এফএসআরইউটি নিয়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তি করেছিল সামিট গ্রুপের সঙ্গে। বিশেষ আইনে সম্পাদিত ওই চুক্তি বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, চুক্তির খসড়া ভেটিং করতে সিঙ্গাপুরের একটি ল-ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মতামত পেলেই পেট্রোবাংলা টার্মিনাল ব্যবহার চুক্তি (টিইউএ) এবং বাস্তবায়ন চুক্তিতে (আইএ) স্বাক্ষর করবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এরপর পিপিআর অনুযায়ী বিপিপিএ এবং আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং করানো হবে। তারপর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোনে স্থাপন করা হবে এফএসআরইউটি। চুক্তির পর থেকে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগবে বলে জানা গেছে। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুদ কমে যাওয়া ও বাড়ন্ত চাহিদার জোগান দিতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ।
মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা)। একটি সামিট গ্রুপ, অপরটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালনা করছে। চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি দ্রুত বিকল্প পথ ধরতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যে কারণে এখন গ্যাস সংকট বেড়ে গেলেও সরকারের কিছুই করার নেই।
এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন (৩০ আগস্ট) ১৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। প্রতিদিনই কমতে থাকা দেশীয় উৎপাদনে ঘাটতি সামাল দেওয়ার মতো কোনো বিকল্প নেই।
আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল লাগবে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কমপক্ষে ১৮ মাস, আর ল্যান্ডবেজড এলএলজি টার্মিনালে ৮০ মাসের ধাক্কা। শুধু টার্মিনাল হলেই সরবরাহ ইচ্ছেমতো বাড়ানোর সুযোগ নেই, দরকার হবে নতুন পাইপলাইনের। মহেশখালী-বাখরাবাদ তৃতীয় সমান্তরাল পাইপলাইনে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। কাজ শেষ হতে ৫ বছর সময় লাগবে বলে পিডিপিপিতে (প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) বলা হয়েছে।
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অবধারিত বিবেচনা করা হয়। সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সেখানে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সরকার। সে কারণে দেশীয় উৎপাদন প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে।
যখন অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা জরুরি ছিল, সেই সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরও একটি পেরেক ঠুকে দিয়ে গেছে। জিডিএফ অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়ন হিসেবে বিবেচিত হতো। ওই প্রকল্প অনুমোদন দিতেন মন্ত্রী অথবা উপদেষ্টা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। এনইসির অনুমোদনের পর শুধু জিও জারি হতেই সময় লেগে যায় ৩ থেকে ৪ মাসের মতো। আর পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনেও কয়েক মাসের ধাক্কা। যদি কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া হয় তাহলে তো কথাই নেই। এ কারণে ২১টি কূপ খননের ডিপিপি লাল ফিতায় চাপা পড়ে রয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগ বন্ধ। প্রতিশ্রুত গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা ৫ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়নের মতো। যে হারে গ্যাসের উৎপাদন কমছে, তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপন শেষ হতে যে সময় লাগবে, ততদিনে সমপরিমাণ গ্যাস কমে যেতে পারে। সে কারণে আরও একাধিক এফএসআরইউ নিয়ে এখনই উদ্যোগী না হলে মারাত্মক সংকটের শঙ্কা করছেন কেউ কেউ।




















প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ: রিজভী