ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নেশাগ্রস্তদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুম্বাই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী। শুনানিতে তিনি মন্তব্য করেন, টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে নিয়মিত মদ্যপানকারীদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মহারাষ্ট্রে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে গণেশ চতুর্থী উৎসব। ২৬ সেপ্টেম্বর উৎসব শেষ হওয়ার কথা। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুনের জেলা প্রশাসকের একটি নির্দেশ জারি করেন। এতে ভারতের খাড়াক, বিশ্রামবৌগ ও ফরাসখানা থানা এলাকায় ১৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।

জেলা প্রশাসকের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৬ সেপ্টেম্বর মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা করেন ওই তিন থানা এলাকার ৫৮ জন মদ ব্যবসায়ী।

তাদের দাবি, প্রতিবছর গণেশ চতুর্থীর শেষ দিনে মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এবার টানা ১৩ দিন দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী ও বিচারপতি অ্যাডভেট সেথনার ডিভিশন বেঞ্চে।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে আদালতে যুক্তিতর্কে অংশ নেন আইনজীবী কেদার ডিগে। তিনি বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব বলেও আদালতকে জানান তিনি।

এ সময় ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করেন, শুধু পুনে জেলাতেই কেন এমন নির্দেশ দেওয়া হলো? রাজ্যের অন্য জেলাগুলোতে কি আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই?

আদালত আরও জানতে চান, মদ্যপান করলেই সবাই মাতলামি করবেন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবেন—এমন আশঙ্কার ভিত্তি কী? কেন শুধু পুনেকেই এভাবে বেছে নেওয়া হলো?

জেলা প্রশাসকের পক্ষে আইনজীবী যুক্তি দেন, গণেশ চতুর্থীর সময়, বিশেষ করে বিসর্জনের দিনে রাস্তায় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম হয়। এ অবস্থায় কেউ মদ্যপান করে থাকলে নারীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

তবে এই যুক্তিতেও সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেন, উৎসব চলাকালে কেউ মদ্যপান করে আনন্দে থাকলেই তিনি রাস্তায় গিয়ে এমন কিছু করবেন—এমন ধারণা করা যায় না। পাশাপাশি টানা এত দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে রাজ্য সরকারের রাজস্বেও ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী হালকা রসিকতার সুরে বলেন, ‘টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে হ্যাবিচুয়াল ড্রিঙ্কারদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

পরে শুনানি চলাকালীন জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আদালতের সামনে নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন আইনজীবী কেদার ডিগে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ২৫ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের দিন ভোর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘নেশাগ্রস্তদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে’

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুম্বাই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী। শুনানিতে তিনি মন্তব্য করেন, টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে নিয়মিত মদ্যপানকারীদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মহারাষ্ট্রে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে গণেশ চতুর্থী উৎসব। ২৬ সেপ্টেম্বর উৎসব শেষ হওয়ার কথা। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুনের জেলা প্রশাসকের একটি নির্দেশ জারি করেন। এতে ভারতের খাড়াক, বিশ্রামবৌগ ও ফরাসখানা থানা এলাকায় ১৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।

জেলা প্রশাসকের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৬ সেপ্টেম্বর মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা করেন ওই তিন থানা এলাকার ৫৮ জন মদ ব্যবসায়ী।

তাদের দাবি, প্রতিবছর গণেশ চতুর্থীর শেষ দিনে মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এবার টানা ১৩ দিন দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী ও বিচারপতি অ্যাডভেট সেথনার ডিভিশন বেঞ্চে।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে আদালতে যুক্তিতর্কে অংশ নেন আইনজীবী কেদার ডিগে। তিনি বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব বলেও আদালতকে জানান তিনি।

এ সময় ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করেন, শুধু পুনে জেলাতেই কেন এমন নির্দেশ দেওয়া হলো? রাজ্যের অন্য জেলাগুলোতে কি আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই?

আদালত আরও জানতে চান, মদ্যপান করলেই সবাই মাতলামি করবেন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবেন—এমন আশঙ্কার ভিত্তি কী? কেন শুধু পুনেকেই এভাবে বেছে নেওয়া হলো?

জেলা প্রশাসকের পক্ষে আইনজীবী যুক্তি দেন, গণেশ চতুর্থীর সময়, বিশেষ করে বিসর্জনের দিনে রাস্তায় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম হয়। এ অবস্থায় কেউ মদ্যপান করে থাকলে নারীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

তবে এই যুক্তিতেও সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেন, উৎসব চলাকালে কেউ মদ্যপান করে আনন্দে থাকলেই তিনি রাস্তায় গিয়ে এমন কিছু করবেন—এমন ধারণা করা যায় না। পাশাপাশি টানা এত দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে রাজ্য সরকারের রাজস্বেও ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী হালকা রসিকতার সুরে বলেন, ‘টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে হ্যাবিচুয়াল ড্রিঙ্কারদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

পরে শুনানি চলাকালীন জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আদালতের সামনে নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন আইনজীবী কেদার ডিগে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ২৫ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের দিন ভোর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।