মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে চীনা স্যাটেলাইট, বলছে যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ১২:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবির যোগসূত্র পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার আগে ইরান চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে হাই রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল। তবে চীনা কোনো প্রতিষ্ঠানের ইরানকে এ ধরনের তথ্য দেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছে চীন।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে চীনের কাছে সতর্কতা জানিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের অভিযোগ ছিল, চীনা কিছু প্রতিষ্ঠান ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু সেই সতর্কতার পরও এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না আসার পরই এই গোয়েন্দা তথ্য সামনে এলো।
তবে এই ঘটনায় চীন সরাসরি জড়িত—এমন অভিযোগ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ জুলাইয়ের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট ছবির বিষয়ে তারা চীনা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে চীন এর প্রমাণ চেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনো নাকচ করে আসছে বেইজিং। একই সঙ্গে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার কথাও অস্বীকার করছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, ইরানকে বেইজিং যে সহায়তা দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই দেয়া হচ্ছে। দূতাবাস আরও বলেছে, সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে সমালোচকেরা ‘বিদ্বেষপূর্ণভাবে অন্য দেশকে এর সঙ্গে জড়াচ্ছে ও বদনাম করছে’।
প্রসঙ্গত, ১৭ জুলাইয়ের ওই হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর-পূর্ব জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এতে তিন সেনা নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। ওই ঘাঁটিতে থাকা মানুষবাহী ও চালকবিহীন উড়োজাহাজও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘাঁটিতে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এর মধ্যে ১৭ জুলাইয়ের হামলাটি সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় এবং এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম হামলা, যাতে মার্কিন সেনা নিহত হন। ঘটনাটি কঠোর নিরাপত্তায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দুর্বলতাও সামনে আনে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও উন্নত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র মিজারভিশন, আর্থ আই ও চ্যাং গুয়াং—এই তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানকে এমন স্যাটেলাইট ছবি দিচ্ছে, যা ‘মার্কিন ও অংশীদার দেশগুলোর সদস্যদের জন্য হুমকি তৈরি করছে’।
ট্রাম্প চীনের সঙ্গে এবং বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। তাই চীনের সহায়তার বিষয়টি প্রকাশ্যে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা পরিস্থিতির প্রভাব কম করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রকাশ্যে চীনের সঙ্গে বিরোধে জড়ালে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে ১৭ জুলাইয়ের হামলার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, চীন ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে কি না। সেসময় তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিও বলেন, ‘চীন যা করেছে, তার কোনো কিছুই কোনোভাবেই সংঘাতের গতিপথ বদলায়নি।’
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এসব স্যাটেলাইট ছবি ইরানের বৃহত্তর গোয়েন্দা তৎপরতার একটি অংশ হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী নিজেদের স্যাটেলাইট, গুপ্তচর বা ভেতরের কোনো ব্যক্তি এবং রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও ছবি দিয়েও নিজেদের তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন যে, চীন বা রাশিয়া ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য বা হাই রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে থাকতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর অবস্থানও নজরদারি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


























৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ