ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনছে ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

অনলাইন জগতের ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অনলাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সংস্থাটি ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, এআই চ্যাটবট এবং অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইউরোপীয় কমিশনের একটি খসড়া নথির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, গুগলের ইউটিউব এবং চ্যাটজিপিটির মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল সেবাগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ভাবিয়ে তুলেছে বাবা-মা ও নীতিনির্ধারকদের।

এজন্য ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’-এর অধীনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনো ভির্কুনেন আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল সেবার বিপুল সুযোগ শিশুরা পাবে, তবে তাদের শোষণ বা অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়াটাই মূল উদ্দেশ্য।

শিশুদের কাছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করতে হবে। শিশুদের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে সহজলভ্য হতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।

প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার আওতায় তিন বছরের কম বয়সীদের জন্য অনলাইন অ্যাক্সেস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এরপর তিন থেকে ১২ বছরের মধ্যের শিশুরা সম্পূর্ণ বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং শুধু অত্যন্ত নিরাপদ, শিশুবান্ধব সেবাই ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আর ১৩ ও ১৪ বছরে বাবা-মায়ের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সীমিত যোগাযোগের সুযোগসহ সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।

১৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী শিশুরা নিজস্ব স্বাধীন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি পাবে।

নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের তদারকি ফি দিতে হবে, যা দিয়ে আইনি পর্যবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে রিপোর্ট করার সুযোগ, আসক্তিমূলক ডিজাইন বর্জন এবং নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে বা গেম ডাউনলোড করতে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি বসাতে হবে। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলো এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অনলাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনছে ইইউ

আপডেট সময় : ১২:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন জগতের ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অনলাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সংস্থাটি ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, এআই চ্যাটবট এবং অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইউরোপীয় কমিশনের একটি খসড়া নথির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, গুগলের ইউটিউব এবং চ্যাটজিপিটির মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল সেবাগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ভাবিয়ে তুলেছে বাবা-মা ও নীতিনির্ধারকদের।

এজন্য ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’-এর অধীনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনো ভির্কুনেন আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল সেবার বিপুল সুযোগ শিশুরা পাবে, তবে তাদের শোষণ বা অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়াটাই মূল উদ্দেশ্য।

শিশুদের কাছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করতে হবে। শিশুদের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে সহজলভ্য হতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।

প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার আওতায় তিন বছরের কম বয়সীদের জন্য অনলাইন অ্যাক্সেস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এরপর তিন থেকে ১২ বছরের মধ্যের শিশুরা সম্পূর্ণ বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং শুধু অত্যন্ত নিরাপদ, শিশুবান্ধব সেবাই ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আর ১৩ ও ১৪ বছরে বাবা-মায়ের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সীমিত যোগাযোগের সুযোগসহ সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।

১৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী শিশুরা নিজস্ব স্বাধীন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি পাবে।

নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের তদারকি ফি দিতে হবে, যা দিয়ে আইনি পর্যবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে রিপোর্ট করার সুযোগ, আসক্তিমূলক ডিজাইন বর্জন এবং নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে বা গেম ডাউনলোড করতে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি বসাতে হবে। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলো এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।