ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

শিগগিরই বাড়ছে মন্ত্রিসভার আকার, আসছে নতুন মুখ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 37

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হতে যাচ্ছে পাঁচটি নতুন মুখ। তাদের মধ্যে একজন টেকনোক্র্যাটও থাকছেন। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের দফতর পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মদক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

যদিও সিদ্ধান্ত কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি, তবে চলতি মাসের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারণ এবং দফতর পুনর্বণ্টনের ঘোষণা আসতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত রয়েছে। তবে, কবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি।

‘মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া, কিছু-কিছু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে, সেখানে রদবদল হতে পারে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কাউকে-কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।

নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোশাররফ হোসেনের নাম। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ, বাণিজ্য, শিল্প ও পাট-বস্ত্র এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুনভাবে বণ্টন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি বলেন, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।

এদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত এমপি সেলিমা রহমানও পেতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রির দায়িত্ব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এর আগেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত ছিলেন। মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখনও সরকারের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও আছেন একই আলোচনায়।

নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। প্রবীণ এই রাজনীতিক বরকত উল্লাহ বুলু পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুবদলের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম জাতীয় সংসদেরও তিনি সদস্য ছিলেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জন : এখনও টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জনকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে মন্ত্রিসভায়। আলোচনায় আছেন এমপি মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাকে এখনও কোথাও নিযুক্ত করা হয়নি। তাকে ঘিরে বেশ আলোচনা রয়েছে। আলাল দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। তার বাড়ি বগুড়ায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। একইভাবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জমান দুদু। তিনিও মনোনয়নবঞ্চিত ছিলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিগগিরই বাড়ছে মন্ত্রিসভার আকার, আসছে নতুন মুখ

আপডেট সময় : ০৪:১৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হতে যাচ্ছে পাঁচটি নতুন মুখ। তাদের মধ্যে একজন টেকনোক্র্যাটও থাকছেন। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের দফতর পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মদক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

যদিও সিদ্ধান্ত কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি, তবে চলতি মাসের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারণ এবং দফতর পুনর্বণ্টনের ঘোষণা আসতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত রয়েছে। তবে, কবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি।

‘মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া, কিছু-কিছু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে, সেখানে রদবদল হতে পারে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কাউকে-কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।

নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোশাররফ হোসেনের নাম। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ, বাণিজ্য, শিল্প ও পাট-বস্ত্র এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুনভাবে বণ্টন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি বলেন, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।

এদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত এমপি সেলিমা রহমানও পেতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রির দায়িত্ব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এর আগেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত ছিলেন। মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখনও সরকারের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও আছেন একই আলোচনায়।

নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। প্রবীণ এই রাজনীতিক বরকত উল্লাহ বুলু পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুবদলের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম জাতীয় সংসদেরও তিনি সদস্য ছিলেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জন : এখনও টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জনকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে মন্ত্রিসভায়। আলোচনায় আছেন এমপি মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাকে এখনও কোথাও নিযুক্ত করা হয়নি। তাকে ঘিরে বেশ আলোচনা রয়েছে। আলাল দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। তার বাড়ি বগুড়ায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। একইভাবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জমান দুদু। তিনিও মনোনয়নবঞ্চিত ছিলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।