মরক্কোর কৌশলে আটকে গেল ব্রাজিল
- আপডেট সময় : ০১:১১:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 26
দূর থেকে ড্রোন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতে মেট লাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিকে মনে হয়েছে সরষে ক্ষেত। ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নিউ জার্সির এই স্টেডিয়াম হলুদে সয়লাব। কিন্তু হলুদ জার্সির প্রিয় দল ব্রাজিল কি এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সমর্থকদের মন জয় করতে পেরেছে ? এ প্রশ্নের উত্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুনতে পাবেন ব্রাজিল সমর্থকদের মুখে।
যে দলটির ফুটবলশৈলীতে প্রতিপক্ষের উপর অনবরত চাপ সৃষ্টি দেখতে অভ্যস্ত ফুটবলপ্রেমীরা, সেই ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপ অভিযাত্রা হয়েছে অনেকটা অপরিচিত রূপে। খেলার প্রথম ১১ মিনিট মাঠে খঁজে পাওয়া যায়নি ব্রাজিলকে। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে সাজানো প্রথম একাদশে একমাত্র স্ট্রাইকার ইগোর থিয়াগো ছিলেন নিষ্প্রভ।
ইনজুরি থেকে সেরে ওঠেননি নেইমার, পুরোপুরি সেরে উঠতে অপেক্ষা করতে হবে আরও তিন-চার সপ্তাহ। শনিবার ম্যাচের আগে গণমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করায় ব্রাজিল সমর্থকরা এমনিতে খেয়েছে ধাক্কা। নেইমার বিহীন ব্রাজিলের সব আলো ছিল ভিনিসুস জুনিয়রের উপর।
লেফট উইং পজিশনে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসুস জুনিয়র যথার্থ পাস পেলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন, তা জানিয়ে দিয়েছেন ডি বক্সে ঢুকে ১৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল থেকে একক কারিশমায় বল নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে বুলেট শটে গোল করে। আরও তিনবার বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণ তিনটি পাসে সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই তিনবারই ব্যর্থ। এক সমান্তরালে থাকা অন্য দুই মিডফিল্ডার পাকুয়েতা-রাফিনহা নিজেদের পজিশন থেকে নিচে নেমে আক্রমনে উঠে আসতে পারেননি। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসিমিরো এতোটাই নিষ্প্রভ ছিলেন যে, মাঠে তার অবস্থান ছিল মাত্র ৩৭ মিনিট।
মরক্কোর সঙ্গে আগের তিনবারের দেখায় ব্রাজিলের দুটি জয়ের একটি ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরতি দেখায় মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল।
পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর হাই ভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলকে ফেভারিট ধরে নিয়েছে অধিকাংশ ফুটবল প্রেমী। তবে মরক্কোর নিকট অতীতের সাফল্য কিন্তু সমীহ করার মতো। আফ্রিকান নেশন্স কাপ, আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং আরব কাপের সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন তাঁরা, এটা মাথায় রাখা উচিৎ ছিল তাঁদের। ব্রাজিলকে আটকাতে একটু বেশি কৌশলীই ছিল মরক্কো। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ফরমেশনকে বেছে নিয়ে একমাত্র স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারির উপর আস্থা রেখেছেন মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওহাবি। তাঁর সুফলই পেয়েছেন তিনি। খেলার ২১তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দিয়াজের থ্রু পেয়ে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে পড়ে পিএসভি তারকা ইসমাইল সাইবারির গোল মরক্কোকে শুধু এগিয়ে দেয়নি, ব্রাজিল সমর্থককদের পিলে চমকে দিয়েছে।
অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি মরক্কোর সুপার স্টার। প্রথমার্ধে খেলেছেন সেই ইমেজেই। ডিফেন্স থেকে বার বার উপরে উঠে এসে আক্রমনের উৎস তৈরি করে দিয়েছেন মরক্কো অধিনায়ক। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে মরক্কোর প্লে মেকারের ভূমিকায় ছিলেন বাউয়াদ্দিকে। মরক্কোর জমাট ডিফেন্সের প্রাণ তিনি, ওভারল্যাপ করে উপরেও উঠেছেন বেশ কয়েকবার। গোলরক্ষক বুনোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়াও ছিল উল্লেখ করার মতো। নিজেদের সীমানায় ব্রাজিলের আক্রমন ক্লিয়ার না করে অধিকাংশ সময়ে গোলরক্ষককে ব্যাক পাস দিয়ে বলের নিয়ন্ত্রন রাখতে চেয়েছে মরক্কো। এই কৌশলের মাশুল দেয়ার মতো পরিস্থিতি কিন্তু তৈরি হয়েছিল। খেলার ৮৩ তম মিনিটে রাপিনহা এমন সুযোগই পেয়েছিলেন। ঝুঁকি নিয়ে প্রাণপণ চেষ্ঠায় সে যাত্রায় গোল হজম থেকে মরক্কোকে বাঁচিয়েছেন গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিট ইনজুরি টাইম ম্যাচের গতি দিয়েছে বাড়িয়ে। এই ১০মিনিটে দু দল দুটি করে মোট ৪টি কর্নার পেয়েছে। ইনজুরি টাইমের ৯ম মিনিটে মরক্কোর বদলী খেলোয়াড় নিল এল আইনাউয়ির কোনাকুনি শট ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করলে বড় বাঁচা বেঁচে যায় সেলেসাওরা।
ব্রাজিল-মরক্কোর ম্যাচটি কতোটা প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ছিল, পরিসংখ্যান তা বলে দিবে। বল দখলের লড়াইয়ে যেখানে ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রন ছিল ৫১.২%, সেখানে মরক্কোর ৪৮.৮%। ব্রাজিল মোট পাস দিয়েছে ৫১২, মরক্কো ৪৮৭টি। যে পাসগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের নিখুঁত হয়েছে ৮৭.৫%, মরক্কোর ৮৬.৪%।ব্রাজিলের ৭টি ক্রসের বিপরীতে মরক্কোর ক্রস সংখ্যা ৮টি। ফাউলের সংখ্যা দু দলেরই সমানে সমান, ৮টি করে। তবে টার্গেটে শটে ব্রাজিল ছিল ৫-৩এ এগিয়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এমনই এক সমতালে লড়াইয়ের ম্যাচ দেখে পয়সা উশুল হয়েছে ৮৫ হাজার দর্শকের।






















হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু