মাত্র ১০ টাকায় প্রতি কেজি পণ্য পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ!
- আপডেট সময় : ০২:৩০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 19
ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া ও আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন ও গতিশীল রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। দেশের সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের দ্রুত ও নিরাপদ কুরিয়ার সুবিধা দিতে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে বিশেষায়িত পার্সেল পরিবহন সেবা ‘স্পিড পোস্ট’।
‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা, ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে স্পিড পোস্ট এখন দেশের দ্রুততম ও সবচেয়ে সাশ্রয়ী কুরিয়ার সেবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সেবার পরিধি বাড়াতে দেশজুড়ে পাইলট ভিত্তিতে ১১টি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল পোস্ট অফিস চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ই-কমার্স খাতের লজিস্টিকস সহায়তার জন্য সারা দেশে ১৪টি সর্বাধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ দেশের লজিস্টিকস ও পার্সেল সরবরাহ খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
স্পিড পোস্ট সেবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অবিশ্বাস্য রকমের কম ডাক মাশুল, যা বাজারে প্রচলিত বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর তুলনায় বহুগুণ সাশ্রয়ী। এই সেবার আওতায় প্রথম এক কেজি ওজনের পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য গ্রাহককে দিতে হবে মাত্র ৫ টাকা। নামমাত্র খরচের এই সুবিধা প্রান্তিক ও নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়ের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে মুনাফা বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। পার্সেল পাঠানোর আগেই গ্রাহকরা যাতে তাদের খরচ হিসাব করতে পারেন, সে জন্য ডাক বিভাগ একটি ডিজিটাল ডাক মাশুল ক্যালকুলেটরও চালু করেছে। নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করে গ্রাহকরা সহজেই তাদের পার্সেলের মাশুল হিসাব করে নিতে পারছেন।
সেবাটিকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে স্পিড পোস্টে যুক্ত করা হয়েছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধা। পার্সেল বুকিং করার পর সেটি ঠিক কোন অবস্থানে রয়েছে, তা ডাক বিভাগের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং লিংকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টাই ঘরে বসে অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন গ্রাহকরা। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ডাকঘরের বিশাল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকায় যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেই সহজেই পণ্য বুকিং ও বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পার্সেল পাঠানোর জন্য ডাক বিভাগের রয়েছে বিশ্বস্ত ইএমএস বা বৈদেশিক পার্সেল সেবা, যা গ্লোবাল লিংকের মাধ্যমে ট্র্যাক করারও সুযোগ রয়েছে।
গ্রাহকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে ডাক বিভাগ বুকিং প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলাহীন করেছে। নিকটস্থ নির্ধারিত ডাকঘরে পার্সেল নিয়ে বুকিং মাশুল পরিশোধ করলেই গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বরসহ একটি অফিশিয়াল রসিদ দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পার্সেল গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। ডাক বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সেবার মাধ্যমে ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাপকের হাতে পার্সেল পৌঁছে যাবে।
























জুলাই ও আগস্টে দেশে বন্যার পূর্বাভাস