ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলেন ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 20

কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়লাভ করেছেন ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট এই প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় নিবন্ধকের প্রায় শতভাগ ব্যালট গণনার তথ্য অনুযায়ী, দে লা এসপ্রিয়েল্লা পেয়েছেন ৪৯.৬৬ শতাংশ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদা পেয়েছেন ৪৮.৭০ শতাংশ ভোট। মাত্র আড়াই লক্ষ ভোটের (১ শতাংশেরও কম) ব্যবধানে এই জয় নির্ধারিত হয়েছে। মোট ২ কোটি ৬৩ লাখেরও বেশি ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেন, যার মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার প্রতিবাদী বা খালি ব্যালট জমা পড়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দে লা এসপ্রিয়েল্লা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তার মূল নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে আলোচনা বাতিল করা এবং তেল ও গ্যাস খাতের ব্যাপক উন্নয়ন। এছাড়া কর হ্রাস এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক আকার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তবে বিদায়ী পেত্রো সরকারের জারি করা ন্যূনতম মজুরির ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি তিনি বহাল রাখবেন। জয়ের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফোনে অভিনন্দন জানান।

উপকূলীয় শহর বারানকিলায় বিজয়ী ভাষণে দে লা এসপ্রিয়েল্লা বলেন, আমি সকল কলম্বীয়দের জন্য শাসন করব-যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, উভয়ের জন্যই। তবে, কোনো পূর্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা এই আইনজীবী ও ব্যবসায়ীকে ক্ষমতা গ্রহণের পরই বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

একদিকে যেমন দেশের বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা তাকে সামলাতে হবে, অন্যদিকে বিভক্ত কংগ্রেসে আইন পাসের ক্ষেত্রেও তিনি বাধার সম্মুখীন হবেন। কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বী সেপেদার ‘হিস্টোরিক প্যাক্ট পার্টি’-র সবচেয়ে বেশি আসন থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে তার সংস্কারমূলক বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে নিজ প্রস্তাব কিছুটা শিথিল করতে হতে পারে। দেশের প্রধান ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই তাকে তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।

এদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রোর নীতির সমর্থক, বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদা তাৎক্ষণিকভাবে পরাজয় মেনে নেননি। তার প্রচার শিবির থেকে জানানো হয়েছে যে তারা মোট ১ লক্ষ ২২ হাজার ব্যালট বাক্সের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার বাক্সের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেছে। সেপেদা চূড়ান্ত ও প্রতিটি ব্যালট বিচারক ও নোটারি দ্বারা যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত এড়াতে তিনি সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করলেও শর্ত দিয়েছেন যে চুক্তিগুলোকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি রক্ষার্থে সম্মানজনক ও আন্তরিক হতে হবে।

দে লা এসপ্রিয়েল্লার এই বিজয় ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে চলমান ডানপন্থী রাজনৈতিক পালাবদলেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি চিলি, আর্জেন্টিনা, কোস্টা রিকা, বলিভিয়া এবং ইকুয়েডরেও ডানপন্থী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এবং পেরুতেও রক্ষণশীলদের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অঞ্চলে তার প্রভাব বাড়াতে তৎপর রয়েছেন এবং মাদক ও অপরাধ দমনে ডানপন্থী নেতাদের নিয়ে ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’ নামক একটি সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

নির্বাচনের আগেই ট্রাম্প এই ফলাফলকে কলম্বিয়ার ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কলম্বিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলেন ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়লাভ করেছেন ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট এই প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় নিবন্ধকের প্রায় শতভাগ ব্যালট গণনার তথ্য অনুযায়ী, দে লা এসপ্রিয়েল্লা পেয়েছেন ৪৯.৬৬ শতাংশ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদা পেয়েছেন ৪৮.৭০ শতাংশ ভোট। মাত্র আড়াই লক্ষ ভোটের (১ শতাংশেরও কম) ব্যবধানে এই জয় নির্ধারিত হয়েছে। মোট ২ কোটি ৬৩ লাখেরও বেশি ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেন, যার মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার প্রতিবাদী বা খালি ব্যালট জমা পড়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দে লা এসপ্রিয়েল্লা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তার মূল নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে আলোচনা বাতিল করা এবং তেল ও গ্যাস খাতের ব্যাপক উন্নয়ন। এছাড়া কর হ্রাস এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক আকার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তবে বিদায়ী পেত্রো সরকারের জারি করা ন্যূনতম মজুরির ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি তিনি বহাল রাখবেন। জয়ের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফোনে অভিনন্দন জানান।

উপকূলীয় শহর বারানকিলায় বিজয়ী ভাষণে দে লা এসপ্রিয়েল্লা বলেন, আমি সকল কলম্বীয়দের জন্য শাসন করব-যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, উভয়ের জন্যই। তবে, কোনো পূর্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা এই আইনজীবী ও ব্যবসায়ীকে ক্ষমতা গ্রহণের পরই বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

একদিকে যেমন দেশের বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা তাকে সামলাতে হবে, অন্যদিকে বিভক্ত কংগ্রেসে আইন পাসের ক্ষেত্রেও তিনি বাধার সম্মুখীন হবেন। কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বী সেপেদার ‘হিস্টোরিক প্যাক্ট পার্টি’-র সবচেয়ে বেশি আসন থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে তার সংস্কারমূলক বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে নিজ প্রস্তাব কিছুটা শিথিল করতে হতে পারে। দেশের প্রধান ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই তাকে তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।

এদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রোর নীতির সমর্থক, বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদা তাৎক্ষণিকভাবে পরাজয় মেনে নেননি। তার প্রচার শিবির থেকে জানানো হয়েছে যে তারা মোট ১ লক্ষ ২২ হাজার ব্যালট বাক্সের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার বাক্সের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেছে। সেপেদা চূড়ান্ত ও প্রতিটি ব্যালট বিচারক ও নোটারি দ্বারা যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত এড়াতে তিনি সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করলেও শর্ত দিয়েছেন যে চুক্তিগুলোকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি রক্ষার্থে সম্মানজনক ও আন্তরিক হতে হবে।

দে লা এসপ্রিয়েল্লার এই বিজয় ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে চলমান ডানপন্থী রাজনৈতিক পালাবদলেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি চিলি, আর্জেন্টিনা, কোস্টা রিকা, বলিভিয়া এবং ইকুয়েডরেও ডানপন্থী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এবং পেরুতেও রক্ষণশীলদের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অঞ্চলে তার প্রভাব বাড়াতে তৎপর রয়েছেন এবং মাদক ও অপরাধ দমনে ডানপন্থী নেতাদের নিয়ে ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’ নামক একটি সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

নির্বাচনের আগেই ট্রাম্প এই ফলাফলকে কলম্বিয়ার ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সূত্র: রয়টার্স