উনাহির জোড়া গোলে শেষ আটে মরক্কো
- আপডেট সময় : ০১:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 3
ধৈর্য্যের ফল একটু মিষ্টিই হয়। হিউস্টনে আজ সেটারই প্রতিফলন দেখা গেল মরক্কো-কানাডা ম্যাচে। রুদ্ধশ্বাস প্রধমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে আজ্জেদিন উনাহি শো দেখেছে বিশ্ব। জিরানোর এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জোড়া গোলের সুবাধে বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠেছে মরক্কো। কপাল পুড়েছে ২৩তম আসরের অন্যতম আয়োজক কানাডার।
হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১১টার ম্যাচে ডেডলক ভাঙে ৫০ মিনিটে। দ্বিতীয় গোলটি হয় নির্ধারিত সময়ের মিনেট আট আগে। যোগ করা সময়ে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন সুফিয়ান রাহিমি।
এদিন ম্যাচ ঘড়ির দ্বিতীয় মিনিটে ইয়াসিন বুনুর দারুণ কৃতিত্বে রক্ষা পায় মরক্কো। লাইল্যার দুর্দান্ত গতিতে বাইলাইনের দিকে ছুটে যাওয়া কানাডাকে ম্যাচের প্রথম কর্নার এনে দেয় এসময়। তবে সেট-পিস স্পেশালিস্ট এউস্তাকিও-র বাঁকানো ইনসুইঙ্গার শটটি দারুণভাবে পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দেন বুনু। এরপর ডেভিডের উদ্দেশ্যে বাড়ানো একটি আশাজাগানিয়া বল থেকে কানাডিয়ান স্ট্রাইকার কোণাকুণি শট নিলেও, বুনু সেটি রুখে দিতে ভুল করেননি।
তার ঠিক ৯ মিনিট পর আবারও ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান বুনু! ডি-বক্সের প্রান্তে বাড়ানো একটি নিচু বল ধরে ওলুয়াসেয়ি চটজলদি ঘুরে গিয়ে লক্ষ্যের দিকে নিচু শট নেন। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলকিপার ততক্ষণে নিজের পজিশন সামলে নিয়ে অ্যাঙ্গেল বা কোণ ছোট করে এনেছিলেন এবং পা বাড়িয়ে দুর্দান্তভাবে বলটি রুখে দেন! আরও একবার বিপদমুক্ত হয়অ্যাটলাস লায়ন্সরা।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি কানাডা ও মরক্কো। এই অর্ধে বল দখলে মরক্কো এগিয়ে থাকলেও, সুযোগ বেশি তৈরি করেছে কানাডা। কানাডার একটি শটের বিপরীতে মরক্কো শট নিয়েছে চারটি। যেখানে কানাডার ২টি শট লক্ষ্যে ছিল এবং মরক্কোর মাত্র ১টি।
বিরতি থেকে ফিরে ৫ মিনিটের মাথায় ডেডলক ভাঙে মরক্কো। দারুণ এক ফ্রি-কিক পরিকল্পনা থেকে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বুলেট গতির শটে গোল করেন উনাহি। আশরাফ হাকিমি বলটি স্লাইড করে তাঁর সতীর্থের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, আর সেখান থেকে নিখুঁত দক্ষতায় বল পোস্টের নিচের ডান কোণ দিয়ে জালে জড়ান উনাহি!
প্রথম গোলের পর সমতায় ফেরার জন্য একাধিক খেলোয়াড়কে সামনে তুলে আক্রমণ শুরু করে কানাডা। তবে সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মরক্কো।
কানাডার আক্রমণ ভেস্তে যাওয়ার পর দ্রুত বল নিয়ে এগিয়ে যান ব্রাহিম দিয়াজ। বক্সে ঢুকে চমৎকার কৌশলে ভেতরের দিকে কেটে উনাহির কাছে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ পেয়ে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি।
দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় মরক্কো। কানাডার জন্য সমতায় ফেরা তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এর কিছুক্ষণ পর ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। সুফিয়ান রাহিমির শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে তৃতীয় গোল থেকে বঞ্চিত হয় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণ ও কার্যকর ফিনিশিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় মরক্কো।























উনাহির জোড়া গোলে শেষ আটে মরক্কো