মরক্কোকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ফ্রান্স
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 24
পেনাল্টি মিসের হতাশা অনেক ফুটবলারের কাঁধ ভারী করে দেয়। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন অন্য ধাতুতে গড়া। সুযোগ নষ্টের আক্ষেপকে বেশিক্ষণ সঙ্গী হতে দেননি। মুহূর্তেই নিজের জাদুকরী পায়ের ছোঁয়ায় লিখলেন নতুন গল্প।
চোখধাঁধানো এক গোল, যা শুধু ফ্রান্সকে এগিয়েই নেয়নি। গ্যালারিজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে উন্মাদনা। অন্য প্রান্তে ছিলেন উসমান দেম্বেলে। বোস্টনের সেই চেনা মাঠে ফিরে আবারও গোলের দেখা পেলেন ফরাসি উইঙ্গার, যে মাঠেই নরওয়ের বিপক্ষে করেছিলেন স্মরণীয় হ্যাটট্রিক। যা এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিক।
দুই তারকার ঝলকানিতে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুইবার কেঁপে ওঠে মরক্কোর জাল। মুহূর্তের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ফরাসিদের হাতে। মরক্কো এই ম্যাচে স্রেফ দর্শক হয়েই থাকল। খুঁজেই পাওয়া গেল না তাদেরকে। ফলাফল ফ্রান্স ২। মরক্কো শূন্য।
ফ্রান্সের গতি, ছন্দ আর আক্রমণের ধার সামাল দেওয়ার মতো কোনো উত্তর তাদের কাছে ছিল না। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
এ যেন শুধু একটি জয় নয়, বরং শিরোপার পথে আরেকটি শক্ত বার্তা। এমবাপ্পের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, দেম্বেলের গোলখরা ভাঙা এবং পুরো দলের নিখুঁত পারফরম্যান্সে মরক্কোকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। তারা সেমিফাইনাল খেলবে স্পেন কিংবা বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
খেললও ফ্রান্স, জিতলও ফ্রান্স। আর শিরোপার স্বপ্নটাকেও আরও উজ্জ্বল করে তুলল।
বোস্টনে ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স ছিল চেনা আধিপত্যের সুরে। প্রতাপশালী ফুটবল তাদের ঐশ্বর্য। সেখানেই ধার রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। কিন্তু মরক্কোর রক্ষণ ভাঙতে পারে না শুরুতে। ২৬ মিনিটে আর্শীবাদ হয়ে আসে পেনাল্টি। দারুণ কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কোর রক্ষণ ভেঙে গোল মুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এমবাপ্পে। তাকে থামাতে পেছন থেকে ছুটছিলেন মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই। শেষ পর্যন্ত না পেরে বক্সের ভেতরে ফাউল করেন নুসাইর। থেমে যায় ফ্রান্সের আক্রমণ। এমবাপ্পে শট নিলেন। কিন্তু দূর্বল সেই শট ঠেকিয়ে দিলেন ইয়াসিন বুনু। বিশ্বকাপের পঞ্চম পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেওয়ার কীর্তি করলেন ইয়াসিন।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলের কেউই পারেনি গোল করতে। ফ্রান্স একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর দেয়াল ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে মরক্কো গোলমুখে কেবল একটিই সুযোগ তৈরি করেছিল। সেটাও বিফলে যায়।
বিরতির পর এমবাপ্পে জাদুতেই ফ্রান্স এগিয়ে যায়। ৬০ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডানপায়ে কোনোকুনি শট নেন এমবাপ্পে। সামনে এক ডিফেন্ডার দাঁড়ানো থাকলেও বলের নাগাল পাননি। এরপর গোলরক্ষক ইয়াসিনও ঝাপিয়ে গোল রক্ষা করতে পারেননি। চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের অষ্টম গোল। মেসিও অষ্টম গোল নিয়ে আছেন শীর্ষে। এছাড়া বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে এমবাপ্পের ২০তম গোল, যা শীর্ষে থাকা মেসির চেয়ে এক গোল কম।
এমবাপ্পের গোলের ৬ মিনিটের পর দেম্বেলে দলকে এগিয়ে নেন। ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে সামনে এগিয়ে যান দেম্বেলে। এরপর ডানপায়ের নিখুঁত শটে বল চোখের পলকে জালে পাঠান।
৭৭ মিনিটে এমবাপ্পে যখন মাঠ ছেড়ে উঠে যান পুরো স্টেডিয়াম তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান। কিংবদন্তি হওয়ার পথে এই তারকা যেন আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন আজকের ম্যাচ দিয়ে। ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপের মুকুট জিতিছিলেন। ২০২২ সালে একটুর জন্য নাগাল পাননি। এবার পারবেন তো?

























Iranian Embassy in Turkey: NATO’s claims on Iran’s nuclear program and the Strait of Hormuz are baseless