ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সহজ শর্তে ও স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ঋণের বার্ষিক সরকারি সুদহার হবে মাত্র ০.৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিপত্র অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে- নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অর্থায়ন।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ তিন সংস্থাকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে।

অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে পরিপত্রে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেয়া হবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।

সরকার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে ১ বছর গ্রেস পিরিয়ড (ঋণ পরিষদ স্থগিতের সময়) থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কিংবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ দিতে পারবে, তবে গ্রাহকের ঋণ অনাদায়ের ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। এ ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় বা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ নীতি ও গ্রাহক যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা (এএমএল/সিএফটি) আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ব্যাংক হিসাব, পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা ও ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে। প্রতিটি ঋণের জন্য স্বতন্ত্র আইডেন্টিফায়ার নম্বর এবং ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচির বার্ষিক স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরিপত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচি নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ১১:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সহজ শর্তে ও স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ঋণের বার্ষিক সরকারি সুদহার হবে মাত্র ০.৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিপত্র অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে- নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অর্থায়ন।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ তিন সংস্থাকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে।

অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে পরিপত্রে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেয়া হবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।

সরকার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে ১ বছর গ্রেস পিরিয়ড (ঋণ পরিষদ স্থগিতের সময়) থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কিংবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ দিতে পারবে, তবে গ্রাহকের ঋণ অনাদায়ের ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। এ ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় বা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ নীতি ও গ্রাহক যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা (এএমএল/সিএফটি) আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ব্যাংক হিসাব, পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা ও ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে। প্রতিটি ঋণের জন্য স্বতন্ত্র আইডেন্টিফায়ার নম্বর এবং ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচির বার্ষিক স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরিপত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচি নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।