ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফার রিজার্ভ থেকে সব দেশকে ১২২ কোটি করে দেওয়ার দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

ফিফার কোষাগারে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউয়েফা ও কনকাকাফ।

ফিফার ২১১ সদস্য দেশকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২২ কোটি টাকার বেশি) করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি দিয়েছে দুই মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা। এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।

ইনফান্তিনোকে পাঠানো চিঠিতে ইউয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি বলেছেন, ২০২৩-২৬ চক্র শেষে ফিফার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাদের মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই অর্থের বড় একটি অংশের প্রয়োজন হবে না।

তাই ২০২৭-৩০ চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। অর্থটি অবকাঠামো উন্নয়ন ও ফুটবলের বিকাশে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এককালীন এই অর্থ ছাড় করতে ফিফার খরচ হবে প্রায় ২.১১ বিলিয়ন ডলার।

এটি নিয়মিত উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফিফার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব নিয়ে ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার জেরেই মূলত নতুন করে এই বিরোধ সামনে এসেছে। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের কথা ছিল।

সেই কোম্পানির ২১ শতাংশ একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও ছিল। তবে জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি প্রকাশের চার দিনের মধ্যেই বাতিল করা হয়।

এর আগে ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে জানিয়েছিলেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হলে তারা ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। যেসব ফেডারেশন প্রস্তাবটি সমর্থন করবে, তাদের প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও নির্ধারণ করেছিলেন ফিফা সভাপতি।

তবে ইউয়েফা ও কনকাকাফের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার প্রকাশিত আর্থিক হিসাব ও বাজেট বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হয়েছে, সদস্যদের আরও অর্থ দেওয়ার জন্য এফএফই পরিকল্পনা প্রয়োজনীয় নয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এই বিশ্লেষণ ‘ইচ্ছাকৃতভাবেই রক্ষণশীল’ ছিল। বছর শেষে ফিফার আর্থিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর রিজার্ভ থেকে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সদস্যদের মধ্যে বিতরণের বিষয়টি ফিফা কাউন্সিলের বিবেচনা করা উচিত বলেও মত দিয়েছে দুই কনফেডারেশন।

ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা করার দাবিও জানিয়েছে তারা। ওই পর্যালোচনায় ফিফার আর্থিক হিসাবের মূল তথ্য ও বাজেট তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত অনুমানগুলোতে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ফিফার কাছে বর্তমানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সঞ্চিত রিজার্ভ রয়েছে। এই অর্থ ফুটবলের ও ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের স্বার্থে ব্যবহারের জন্যই রাখা হয়েছে। ফিফার ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ দায়িত্বশীলভাবে ছাড় করা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

সেফেরিন ও মন্তাগলিয়ানি লিখেছেন, উন্নয়ন ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব- কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা বা বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল বিষয় নয়।

এই প্রস্তাবের সমর্থন চেয়ে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের কাছেও আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর এক দিন আগে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ার ডেবি হিউইট ইনফান্তিনো ও ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে চিঠি দিয়ে এফএফই পরিকল্পনাসংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবি জানান।

ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিউইট ফিফা কাউন্সিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার বিষয়েও লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা। তার আগেই সংশ্লিষ্ট সব নথি কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়াবেন। তার বিরুদ্ধে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিফার রিজার্ভ থেকে সব দেশকে ১২২ কোটি করে দেওয়ার দাবি

আপডেট সময় : ০১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিফার কোষাগারে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউয়েফা ও কনকাকাফ।

ফিফার ২১১ সদস্য দেশকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২২ কোটি টাকার বেশি) করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি দিয়েছে দুই মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা। এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।

ইনফান্তিনোকে পাঠানো চিঠিতে ইউয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি বলেছেন, ২০২৩-২৬ চক্র শেষে ফিফার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাদের মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই অর্থের বড় একটি অংশের প্রয়োজন হবে না।

তাই ২০২৭-৩০ চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। অর্থটি অবকাঠামো উন্নয়ন ও ফুটবলের বিকাশে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এককালীন এই অর্থ ছাড় করতে ফিফার খরচ হবে প্রায় ২.১১ বিলিয়ন ডলার।

এটি নিয়মিত উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফিফার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব নিয়ে ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার জেরেই মূলত নতুন করে এই বিরোধ সামনে এসেছে। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের কথা ছিল।

সেই কোম্পানির ২১ শতাংশ একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও ছিল। তবে জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি প্রকাশের চার দিনের মধ্যেই বাতিল করা হয়।

এর আগে ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে জানিয়েছিলেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হলে তারা ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। যেসব ফেডারেশন প্রস্তাবটি সমর্থন করবে, তাদের প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও নির্ধারণ করেছিলেন ফিফা সভাপতি।

তবে ইউয়েফা ও কনকাকাফের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার প্রকাশিত আর্থিক হিসাব ও বাজেট বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হয়েছে, সদস্যদের আরও অর্থ দেওয়ার জন্য এফএফই পরিকল্পনা প্রয়োজনীয় নয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এই বিশ্লেষণ ‘ইচ্ছাকৃতভাবেই রক্ষণশীল’ ছিল। বছর শেষে ফিফার আর্থিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর রিজার্ভ থেকে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সদস্যদের মধ্যে বিতরণের বিষয়টি ফিফা কাউন্সিলের বিবেচনা করা উচিত বলেও মত দিয়েছে দুই কনফেডারেশন।

ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা করার দাবিও জানিয়েছে তারা। ওই পর্যালোচনায় ফিফার আর্থিক হিসাবের মূল তথ্য ও বাজেট তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত অনুমানগুলোতে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ফিফার কাছে বর্তমানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সঞ্চিত রিজার্ভ রয়েছে। এই অর্থ ফুটবলের ও ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের স্বার্থে ব্যবহারের জন্যই রাখা হয়েছে। ফিফার ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ দায়িত্বশীলভাবে ছাড় করা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

সেফেরিন ও মন্তাগলিয়ানি লিখেছেন, উন্নয়ন ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব- কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা বা বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল বিষয় নয়।

এই প্রস্তাবের সমর্থন চেয়ে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের কাছেও আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর এক দিন আগে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ার ডেবি হিউইট ইনফান্তিনো ও ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে চিঠি দিয়ে এফএফই পরিকল্পনাসংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবি জানান।

ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিউইট ফিফা কাউন্সিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার বিষয়েও লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা। তার আগেই সংশ্লিষ্ট সব নথি কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়াবেন। তার বিরুদ্ধে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।