প্রশাসনে জামায়াত-শিবিরপন্থীদের বসানো হচ্ছে: রিজভী

- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 56
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরপন্থি ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের বসানো হয়েছে আর বিএনপিপন্থিদের অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’
‘জনগণের রায়কে জামায়াত সবসময় ভয় পায়, সেজন্য তারা পিআর চায়’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই ইসলামপন্থি দলের অনুসারীদের প্রশাসনের ‘কিং পয়েন্টে’ বসানো হয়, তাহলে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচন ব্যাহত করবে।”
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বক্তব্য—“বিএনপি-জামায়াত কামড়াকামড়ি করছে”—এর জবাবে রিজভী বলেন, “কোথায় এমনটা হচ্ছে? দেখান। আসলে একদলীয় মানসিকতা থেকে শুধু একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদেরই প্রশাসনে বসানো হচ্ছে।”
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “যাদের ছাত্রদলের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, যেমন জাকির হোসেন—তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আবদুর রউফকে অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তরিকুল ইসলামকে গুরুত্বহীন জায়গায় রাখা হয়েছে। অথচ খুঁজে খুঁজে একটি বিশেষ দলের অনুসারীদেরই জায়গা দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার চিন্তাধারার প্রতিফলন এখানেই স্পষ্ট।”
রিজভীর দাবি, সরকার একটি নির্দিষ্ট ‘এজেন্ডা’ বা ‘নীল নকশা’ নিয়ে এগোচ্ছে, যেখানে ‘ডিপ স্টেট’ থেকে নানা পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। “নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়,”—বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি বদলি হওয়া জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমানকে নিয়েও তিনি অভিযোগ করেন। বলেন, “তিনি শুরু থেকেই বিএনপিবিরোধী ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করেছেন। বিএনপি পরিবারের তরুণ কর্মকর্তাদের ওএসডি করে রাখা হয়েছিল।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে রিজভী বলেন, “আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবে ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে এবং গণতন্ত্র ধ্বংস না হয়।”
এসময় গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে জামায়াত নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।’
এছাড়া পাহাড়ে হঠাৎ অশান্তি মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।






















