ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের যে কলেজটি ধর্ষণে তালিকার শীর্ষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:১৬ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৪ সালে ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৩ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে এই সংখ্যা আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা দণ্ডিত ব্যক্তির হিসাব নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হিসাবে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে সবচেয়ে বেশি, ১৪৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে ৯৬টি এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৬৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর প্রকাশিত ব্যাখ্যায় এই সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে ১১০টি এসেছে একজন শিক্ষার্থীর একই সম্পর্কের মধ্যে বারবার যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ থেকে। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী ঘটনাগুলো জানান। ফলে ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনা মানে ১৪৬ জন পৃথক অভিযোগকারী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিযোগকারীর জানানো প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্লেরি অ্যাক্টের আওতায় উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে রিপোর্ট হওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হয়। ফেডারেল শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে সর্বশেষ তিন বছরের তথ্য রাখার নিয়ম রয়েছে। এতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন অপরাধ, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত অপরাধের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এই পরিসংখ্যান বোঝার ক্ষেত্রে অভিযোগ, তদন্ত ও আদালতের রায়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের অপরাধের তথ্য নির্দিষ্ট বছরে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশকে জানানো অভিযোগের হিসাব। এটি অপরাধের বিচার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা নির্দেশ করে না। আবার অনেক ঘটনা রিপোর্ট না হওয়ায় নথিভুক্ত পরিসংখ্যানও সংঘটিত সব ঘটনার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।

নিউইয়র্কের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের ক্ষেত্রেও অপরাধের শ্রেণি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের ‘ইনাফ ইজ ইনাফ’ প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ডেটিং ভায়োলেন্স, পারিবারিক সহিংসতা ও স্টকিংয়ের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাই এই বিস্তৃত হিসাবকে শুধু ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। ফেডারেল ধর্ষণের পরিসংখ্যান এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার সম্মিলিত সংখ্যা সরাসরি এক করে তুলনা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তথ্যের বছরও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও জাতীয় তুলনাটি ২০২৪ সালের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ ২০২৫ সালের অপরাধসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ২০২৪ সালের তালিকাকে বর্তমান বছরের অপরাধের তালিকা হিসেবে দেখানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে অপরাধের তথ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তানীতি, প্রতিরোধ কর্মসূচি ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের যে কলেজটি ধর্ষণে তালিকার শীর্ষে

আপডেট সময় : ০২:১৬:১৬ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৪ সালে ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৩ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে এই সংখ্যা আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা দণ্ডিত ব্যক্তির হিসাব নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হিসাবে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে সবচেয়ে বেশি, ১৪৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে ৯৬টি এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৬৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর প্রকাশিত ব্যাখ্যায় এই সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে ১১০টি এসেছে একজন শিক্ষার্থীর একই সম্পর্কের মধ্যে বারবার যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ থেকে। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী ঘটনাগুলো জানান। ফলে ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনা মানে ১৪৬ জন পৃথক অভিযোগকারী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিযোগকারীর জানানো প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্লেরি অ্যাক্টের আওতায় উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে রিপোর্ট হওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হয়। ফেডারেল শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে সর্বশেষ তিন বছরের তথ্য রাখার নিয়ম রয়েছে। এতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন অপরাধ, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত অপরাধের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এই পরিসংখ্যান বোঝার ক্ষেত্রে অভিযোগ, তদন্ত ও আদালতের রায়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের অপরাধের তথ্য নির্দিষ্ট বছরে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশকে জানানো অভিযোগের হিসাব। এটি অপরাধের বিচার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা নির্দেশ করে না। আবার অনেক ঘটনা রিপোর্ট না হওয়ায় নথিভুক্ত পরিসংখ্যানও সংঘটিত সব ঘটনার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।

নিউইয়র্কের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের ক্ষেত্রেও অপরাধের শ্রেণি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের ‘ইনাফ ইজ ইনাফ’ প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ডেটিং ভায়োলেন্স, পারিবারিক সহিংসতা ও স্টকিংয়ের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাই এই বিস্তৃত হিসাবকে শুধু ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। ফেডারেল ধর্ষণের পরিসংখ্যান এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার সম্মিলিত সংখ্যা সরাসরি এক করে তুলনা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তথ্যের বছরও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও জাতীয় তুলনাটি ২০২৪ সালের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ ২০২৫ সালের অপরাধসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ২০২৪ সালের তালিকাকে বর্তমান বছরের অপরাধের তালিকা হিসেবে দেখানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে অপরাধের তথ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তানীতি, প্রতিরোধ কর্মসূচি ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।