বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের আনন্দঘন দিন উদযাপন

- আপডেট সময় : ০৪:০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
জীবনের শেষ বিকেলে মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না। চায় একটু আপন করে কথা বলা, কেউ পাশে বসুক, কুশল জিজ্ঞেস করুক, পুরোনো দিনের গল্প শুনুক। কখনো কখনো একটি হাসি, এক কাপ চা কিংবা কয়েক ঘণ্টার সঙ্গই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোলার নিজাম-হাসিনা বৃদ্ধাশ্রমে তেমনই এক মানবিক দিনের আয়োজন করেছিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রবীণদের একাকিত্বকে কিছুটা দূরে সরিয়ে তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির। আর তখনই বৃদ্ধাশ্রমের চেনা পরিবেশ বদলে যায় হাসি, গল্প আর আন্তরিকতার উষ্ণতায়।
বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী প্রবীণদের অনেকের জীবনেই আপনজনের সান্নিধ্য আজ অনেকটাই দূরের স্মৃতি। কেউ জীবনের দীর্ঘ কর্মময় সময় পার করেছেন পরিবার ও সমাজের জন্য, কেউ হারিয়েছেন প্রিয়জন, আবার কেউ নানা বাস্তবতায় এসে ঠাঁই নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। তাঁদের জীবনে তাই বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের এই উপস্থিতি হয়ে উঠেছিল বিশেষ কিছু।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন (সিয়াম) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ভোলা জেলা প্রতিনিধি ইকরামুল আলম, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ভোলা জেলা প্রতিনিধি মো. মঞ্জুর আলম।
আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর আবিদ হোসেন রাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদুর রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস মিথিলা, দপ্তর সম্পাদক নুর ফাতেমা, সহ দপ্তর সম্পাদক আরিয়ান আহমেদ রকি, অর্থ সম্পাদক সাফা ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান জামী, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান, কার্যকরী সদস্য লাইজু আক্তার, মো. রাসেল সহ বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
আয়োজনের শুরুতেই প্রবীণদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। কেউ গল্প শুনেছেন, কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতি বলেছেন, কেউবা হাসিমুখে তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বয়সের ব্যবধান যেন কোথাও ছিল না, একসময় মনে হয়েছে, তাঁরা যেন একই পরিবারের মানুষ।
কেউ প্রবীণের পাশে বসে হাত ধরেছেন, কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন তাঁদের জীবনের গল্প। আর প্রবীণদের চোখেমুখে ছিল দীর্ঘদিন পর পাওয়া আপনজনের সান্নিধ্যের আনন্দ।
একজন প্রবীণের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার জন্য হয়তো বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু একটু সময়, একটু মনোযোগ আর আন্তরিকতা। ভোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের এই আয়োজন সেই সহজ সত্যটিকেই যেন নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।
বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা মো. ফারুক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় আপনজনের সঙ্গ। ওরা এসে আমাদের সঙ্গে সময় কাটায়, কথা বলে এটাই আমাদের কাছে অনেক বড় আনন্দ।’ এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল পুরো আয়োজনের সার্থকতা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন বলেন, ‘বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণদের নিয়ে আনন্দঘন দিন উদযাপন আমাদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও মানবিকতার ছোট্ট একটি প্রকাশ। একসময় যাঁরা আমাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, আজ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকটি মুহূর্ত কাটাতে পারা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের। তাঁদের জীবনের শূন্যতার পাশে যদি আমরা সামান্য ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়াতে পারি, সেটুকুই আমাদের সার্থকতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষগুলোর প্রয়োজন শুধু খাবার, পোশাক কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নয়। তাঁদের প্রয়োজন কথা বলার একজন মানুষ, প্রয়োজন একটু মনোযোগ, প্রয়োজন এমন কিছু মুহূর্ত, যেখানে তাঁরা অনুভব করবেন, তাঁরা একা নন; সমাজ তাঁদের ভুলে যায়নি। সেই জায়গা থেকেই বসুন্ধরা শুভসংঘের এই আয়োজন। আমাদের আয়োজন হয়তো খুব বড় নয়, কিন্তু ভালোবাসার জায়গাটা বড়। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কিছু প্রয়োজন হয় না। একটু সময়, একটু আন্তরিকতা আর একটি হাসিও কখনো কখনো একজন মানুষের পুরো দিনটাকে আনন্দময় করে তুলতে পারে।’
আয়োজনের একপর্যায়ে প্রবীণদের সঙ্গে ছবি তোলার মুহূর্তও হয়ে ওঠে স্মরণীয়। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে বয়সের ব্যবধান ভুলে একসঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি প্রজন্ম। ছবিটি যেন বলে দেয়, মানবিকতার কোনো বয়স নেই, ভালোবাসারও কোনো বয়স হয় না।
দিন শেষে যখন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন অনেক প্রবীণের চোখেমুখে ছিল মায়া। কেউ আবার পরের বার কবে আসবেন, সেই অপেক্ষার কথাও জানান। বিদায়ের মুহূর্তে তৈরি হওয়া সেই টানই বলে দেয়, কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজন তাঁদের কাছে কতটা মূল্যবান ছিল।
ভোলার বৃদ্ধাশ্রমে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই আয়োজন তাই শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়; এটি ছিল প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের হৃদয়ের সেতুবন্ধন। ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক সুন্দর প্রকাশ।















