ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নিত্যপণ্যের দাম ?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 65

রাজধানীর বাজারে সবজির দাম উচ্চ পর্যায়ে স্থির রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন সরবরাহ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যায়। যার কারণে বেড়েছে দাম। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন-চার দিন ছুটি ছিল। ফলে কমেছে ভারত থেকে আমদানি করা বেশকিছু সবজি।

আবার ক্রেতারা বলছেন, সবজির মৌসুম নয় বা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট — এমন কারণ দেখিয়ে বিক্রেতারা লাগামহীন দাম ধরে রেখেছেন। বাজারে শুধু মাত্র পেঁপে ছাড়া সব সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ এর ঘরে। তবে ভ্যানে, ভ্রাম্যমাণ দোকানে শাকসবজির দাম কেজিতে অন্তত ৫টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, অদৃশ্য এক সিন্ডিকেট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের বিশাল ব্যবধান তৈরি করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

ইরানের তেল রফতানিকারদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বল হয়ে পড়ায় এই ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান কমাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। এরমধ্যে আবার ১০ টাকা বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির বাড়তি দাম দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি—শিম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, মুলা ৬০ টাকা কেজি, ফুলকপি (ছোট আকারের) ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি—ঝিঙা, করলা, বরবটি, বেগুন, কচুর লতি, পটল, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, দেশি শসা ৭০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতা ৩৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা ও কাঁকরোল ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

আর লাল শাক ৩০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিটি সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে, আবার কিছু কিছু সবজি তার চেয়েও বেশি দাম। বিগত চার মাস ধরে অতিরিক্ত বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামে সবজি কিনতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। আগে যেখানে এক কেজি সবজি কিনতাম এখন অতিরিক্ত বেশি দাম হওয়ার কারণে আধা কেজি সবজি কিনছি। সাধারণ ক্রেতাদের আমার মত একই অবস্থা।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বিগত চার মাস ধরে সবজি বিক্রেতারা বলে আসছে, এখন বেশিরভাগ সবজির মৌসুম নয় তাই দাম বেশি। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সবজির দাম বাড়তি। তাহলে মৌসুমটা শুরু হচ্ছে কখন আর শেষ হচ্ছে বা কখন? এত বেশি সবজির দাম, তবুও বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ কখনো দেখলাম না।

সবজির দাম বৃদ্ধি বিষয়ে মগবাজারের সবজি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে খেত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে আরো কিছুটা দাম বেড়েছে সবজির। এছাড়া বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সেই সবজিগুলোর দাম বাড়তে যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই নতুন সবজি উঠতে শুরু করবে, তখন থেকে সবজির দাম কমে যাবে। বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজি সরবরাহ কম, যে কারণে সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি যাচ্ছে।

বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি ৩১০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২১০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রামপুরা বাজারের ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, আগে মাসে কয়েকবার দেশি মুরগি কিনতাম, এখন সেটা স্বপ্ন হয়ে গেছে। মাছ কিনতে গেলেও গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। বাজারের সঙ্গে আয়-রোজগারের কোনো মিল নেই। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আরেক ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, বাজারে আসলে দেখি কোন জিনিসের দাম একটু কম, সেটাই কেনার চেষ্টা করি। কখন যে কোনটার দাম বাড়ে, বলা যায় না। টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু পণ্য আনতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি নেই।

গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ইলিশ বিক্রি বন্ধ থাকলেও গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ (চাষের, আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এসে ক্রেতারা—বলছেন গরু-খাসির মাংস অনেক আগেই নাগালের বাইরে গেছে; এখন মুরগি ও মাছও বিলাসী খাবারের তালিকায় ঢুকছে। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা হক বলেন, আগে সপ্তাহে একদিন বাজারে যেতাম, এখন দুই দিনে যাই। কারণ প্রতিদিন দাম বাড়ে। সংসার চালাতে এখন বুদ্ধি খাটিয়ে বাজার করতে হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামের লাগাম টানার মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও সিন্ডিকেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে অস্থিরতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারাও দাম বৃদ্ধির দায় নিচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়েই প্রতিদিন দাম ওঠানামা করছে। খামারিরা ফিড, পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ানোর অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বাধ্য হয়ে সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নিত্যপণ্যের দাম ?

আপডেট সময় : ০২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর বাজারে সবজির দাম উচ্চ পর্যায়ে স্থির রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন সরবরাহ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যায়। যার কারণে বেড়েছে দাম। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন-চার দিন ছুটি ছিল। ফলে কমেছে ভারত থেকে আমদানি করা বেশকিছু সবজি।

আবার ক্রেতারা বলছেন, সবজির মৌসুম নয় বা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট — এমন কারণ দেখিয়ে বিক্রেতারা লাগামহীন দাম ধরে রেখেছেন। বাজারে শুধু মাত্র পেঁপে ছাড়া সব সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ এর ঘরে। তবে ভ্যানে, ভ্রাম্যমাণ দোকানে শাকসবজির দাম কেজিতে অন্তত ৫টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, অদৃশ্য এক সিন্ডিকেট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের বিশাল ব্যবধান তৈরি করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

ইরানের তেল রফতানিকারদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বল হয়ে পড়ায় এই ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান কমাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। এরমধ্যে আবার ১০ টাকা বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির বাড়তি দাম দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি—শিম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, মুলা ৬০ টাকা কেজি, ফুলকপি (ছোট আকারের) ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি—ঝিঙা, করলা, বরবটি, বেগুন, কচুর লতি, পটল, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, দেশি শসা ৭০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতা ৩৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা ও কাঁকরোল ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

আর লাল শাক ৩০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিটি সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে, আবার কিছু কিছু সবজি তার চেয়েও বেশি দাম। বিগত চার মাস ধরে অতিরিক্ত বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামে সবজি কিনতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। আগে যেখানে এক কেজি সবজি কিনতাম এখন অতিরিক্ত বেশি দাম হওয়ার কারণে আধা কেজি সবজি কিনছি। সাধারণ ক্রেতাদের আমার মত একই অবস্থা।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বিগত চার মাস ধরে সবজি বিক্রেতারা বলে আসছে, এখন বেশিরভাগ সবজির মৌসুম নয় তাই দাম বেশি। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সবজির দাম বাড়তি। তাহলে মৌসুমটা শুরু হচ্ছে কখন আর শেষ হচ্ছে বা কখন? এত বেশি সবজির দাম, তবুও বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ কখনো দেখলাম না।

সবজির দাম বৃদ্ধি বিষয়ে মগবাজারের সবজি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে খেত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে আরো কিছুটা দাম বেড়েছে সবজির। এছাড়া বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সেই সবজিগুলোর দাম বাড়তে যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই নতুন সবজি উঠতে শুরু করবে, তখন থেকে সবজির দাম কমে যাবে। বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজি সরবরাহ কম, যে কারণে সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি যাচ্ছে।

বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি ৩১০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২১০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রামপুরা বাজারের ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, আগে মাসে কয়েকবার দেশি মুরগি কিনতাম, এখন সেটা স্বপ্ন হয়ে গেছে। মাছ কিনতে গেলেও গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। বাজারের সঙ্গে আয়-রোজগারের কোনো মিল নেই। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আরেক ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, বাজারে আসলে দেখি কোন জিনিসের দাম একটু কম, সেটাই কেনার চেষ্টা করি। কখন যে কোনটার দাম বাড়ে, বলা যায় না। টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু পণ্য আনতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি নেই।

গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ইলিশ বিক্রি বন্ধ থাকলেও গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ (চাষের, আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এসে ক্রেতারা—বলছেন গরু-খাসির মাংস অনেক আগেই নাগালের বাইরে গেছে; এখন মুরগি ও মাছও বিলাসী খাবারের তালিকায় ঢুকছে। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা হক বলেন, আগে সপ্তাহে একদিন বাজারে যেতাম, এখন দুই দিনে যাই। কারণ প্রতিদিন দাম বাড়ে। সংসার চালাতে এখন বুদ্ধি খাটিয়ে বাজার করতে হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামের লাগাম টানার মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও সিন্ডিকেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে অস্থিরতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারাও দাম বৃদ্ধির দায় নিচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়েই প্রতিদিন দাম ওঠানামা করছে। খামারিরা ফিড, পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ানোর অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বাধ্য হয়ে সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।