ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে বিএনপির ৮ প্যাকেজ নিয়ে ইশতেহার; বাস্তবতা চায় ভোটাররা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 217
237

জাতীয় নির্বাচনে কৃষি, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নাগরিক সুবিধাসহ আটটি প্যাকেজ নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। বিশ্লেষকদের মত, ইশতেহারে জুলাই আকাঙ্ক্ষা, দুর্নীতি, সুশাসনের পাশাপাশি আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার না করলে তা প্রত্যাখ্যান করবেন ভোটাররা। শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, নতুন বাস্তবতায় জ্ঞাননির্ভর ইশতেহার প্রণয়নের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আর দেড় মাসের কম সময়ের ব্যবধানে যখন জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে দেশ, সেসময় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও খালেদা জিয়ার শোক কাটিয়ে উঠে নির্বাচনমুখী যাত্রায় মনোযোগী হচ্ছে বিএনপি। তাই জনগণের সামনে এর মধ্যেই নিজেদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে দলটি। এ লক্ষ্যেই নির্বাচনের ইশতেহার তৈরিতে কাজ করছে বিএনপি। শিগগিরই ফ্যামিলি, ফার্মার্স ও হেলথ কার্ডের মত সুবিধা সম্বলিত আট দফার প্যাকেজ পরিকল্পনা ও পূর্ব ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নির্ভর ইশতেহার ঘোষণা করবে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; বাতিল হচ্ছে অযোগ্য প্রার্থীদের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন টুকু বলেন, ‘তারে রহমান যে ৩১ দফা দিয়েছে, এটাতে অনেক আলোচনা, পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এটা দিয়েছেন। এসব কার্ড যে দেবো, এটা নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা আছে। আশা করি এ পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে মানুষ যে সমস্যাগুলো প্রতিনিয়ত ফেস করে, সেটা থেকে অনেকটা মুক্তি পাবে।’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়। ইশতেহারে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দুর্নীতি, সুশাসনের পাশাপাশি আধিপত্যবাধবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার না করলে তা প্রত্যাখ্যান করবে ভোটাররা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘একটা সুশাসন, টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের দারিদ্র বিমোচন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতিটা কী হবে? কথার ফুলঝুরি দিয়ে যদি কেউ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করে বা গণতন্ত্রে পরিবর্তে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা করতে হয়, তাদের প্রত্যেকের কাঁধের মধ্যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে দৃষ্টান্ত, এটা কিন্তু গরম নিঃশ্বাসের মতো তাদের কাঁধে ফেলবে।’

অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জনকল্যাণমুখী ইশতেহার তৈরিতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে মেধাভিত্তিক ইশতেহার তৈরির পরামর্শ দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি দলীয়করণ করি তাহলে তো এটা শেষ হয়ে যাবে। আর দলীয়করণ না, মেধা। এ মেধার জন্যই তো এতকিছু হলো। মেধাকে ধারণ করে মেরিটোক্রেসি যেটা বলি, এটাতে স্টাবলিশড করা।’

নির্বাচনি ইশতেহারে অনেক কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করার নজির থাকলেও এবারের বাস্তবতায় গণমুখী ও বাস্তবসম্মত ইশতেহার না দিতে পারলে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা থাকবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনে বিএনপির ৮ প্যাকেজ নিয়ে ইশতেহার; বাস্তবতা চায় ভোটাররা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
237

জাতীয় নির্বাচনে কৃষি, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নাগরিক সুবিধাসহ আটটি প্যাকেজ নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। বিশ্লেষকদের মত, ইশতেহারে জুলাই আকাঙ্ক্ষা, দুর্নীতি, সুশাসনের পাশাপাশি আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার না করলে তা প্রত্যাখ্যান করবেন ভোটাররা। শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, নতুন বাস্তবতায় জ্ঞাননির্ভর ইশতেহার প্রণয়নের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আর দেড় মাসের কম সময়ের ব্যবধানে যখন জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে দেশ, সেসময় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও খালেদা জিয়ার শোক কাটিয়ে উঠে নির্বাচনমুখী যাত্রায় মনোযোগী হচ্ছে বিএনপি। তাই জনগণের সামনে এর মধ্যেই নিজেদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে দলটি। এ লক্ষ্যেই নির্বাচনের ইশতেহার তৈরিতে কাজ করছে বিএনপি। শিগগিরই ফ্যামিলি, ফার্মার্স ও হেলথ কার্ডের মত সুবিধা সম্বলিত আট দফার প্যাকেজ পরিকল্পনা ও পূর্ব ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নির্ভর ইশতেহার ঘোষণা করবে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; বাতিল হচ্ছে অযোগ্য প্রার্থীদের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন টুকু বলেন, ‘তারে রহমান যে ৩১ দফা দিয়েছে, এটাতে অনেক আলোচনা, পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এটা দিয়েছেন। এসব কার্ড যে দেবো, এটা নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা আছে। আশা করি এ পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে মানুষ যে সমস্যাগুলো প্রতিনিয়ত ফেস করে, সেটা থেকে অনেকটা মুক্তি পাবে।’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়। ইশতেহারে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দুর্নীতি, সুশাসনের পাশাপাশি আধিপত্যবাধবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার না করলে তা প্রত্যাখ্যান করবে ভোটাররা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘একটা সুশাসন, টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের দারিদ্র বিমোচন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতিটা কী হবে? কথার ফুলঝুরি দিয়ে যদি কেউ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করে বা গণতন্ত্রে পরিবর্তে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা করতে হয়, তাদের প্রত্যেকের কাঁধের মধ্যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে দৃষ্টান্ত, এটা কিন্তু গরম নিঃশ্বাসের মতো তাদের কাঁধে ফেলবে।’

অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জনকল্যাণমুখী ইশতেহার তৈরিতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে মেধাভিত্তিক ইশতেহার তৈরির পরামর্শ দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি দলীয়করণ করি তাহলে তো এটা শেষ হয়ে যাবে। আর দলীয়করণ না, মেধা। এ মেধার জন্যই তো এতকিছু হলো। মেধাকে ধারণ করে মেরিটোক্রেসি যেটা বলি, এটাতে স্টাবলিশড করা।’

নির্বাচনি ইশতেহারে অনেক কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করার নজির থাকলেও এবারের বাস্তবতায় গণমুখী ও বাস্তবসম্মত ইশতেহার না দিতে পারলে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা থাকবে বলে মত বিশ্লেষকদের।