ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি শেষে বাড়ছে তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 4
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বাজার অস্থির হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের ধারণা, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ০.৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৫.২৫ ডলারে উঠেছে। তবে লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ০.৪৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮১.২৩ ডলারে নেমেছে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।
যেভাবে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৭ জুন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ সাময়িকভাবে সম্মত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাড়ানো হয়নি।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ইরান জানায়, তারা ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বর্তমানে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত শনিবার সেখানে মাত্র পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর পরদিন রোববার কোনো ট্যাংকারই ওই পথ দিয়ে যায়নি। অথচ তার আগের রোববার ৩১টি ট্যাংকার চলাচল করেছিল।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর সঙ্গে লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার ঘটনাও নতুন করে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহন আরও ব্যাহত হতে পারে।
মূল্যস্ফীতির উদ্বেগও বাড়ছে
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৪.৭২৮ শতাংশে উঠেছে। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫.৩১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি সুদের হার দীর্ঘ সময় তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল আরও কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, ট্রেডিং ইকোনমিকস





















কলকাতার হোটেলে আগুন: নিহত ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত