মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: সংকটে আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে খরচ
- আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / 45
শুধু জ্বালানি নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানি-রপ্তানি খাতেও। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো পরিবহন এবং বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজে থাকা মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনারের উপর সারচার্জ আরোপ করেছে। এতে বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি খরচ। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে অনেক শিপিং লাইন।
দেশের ৬৩ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের গন্তব্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও আমেরিকা। আর ওইসব দেশ থেকে আসে আমদানি পণ্যের আট শতাংশ। সমুদ্রপথে পণ্য পৌঁছানোর সহজ রাস্তা সুয়েজখাল ও লোহিত সাগর। হুতিদের কারণে দুই বছর ধরে লোহিত সাগর বন্ধ। তাই ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচ ও সময় লাগছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা সংকট আরও বাড়িয়েছে। এরইমধ্যে শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ লয়েড সতর্কতা জারি করেছে। মার্কস লাইন, এমএসসি, সিএমএ-সিজিএম এবং কসকোও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জ্বালানি তেল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয় সার, খনিজ পণ্যসহ অনেক কাঁচামাল। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী ও আরব সাগরে ১৪০টি কনটেইনারবাহী জাহাজসহ বিপুল সংখ্যক জাহাজ আটকা পড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য বুকিং আপাতত বন্ধ রেখেছে শিপিং কোম্পানিগুলো। বন্দর ও ডিপোতে আটকে গেছে কোটি কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য। এ কারণে লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এমএসসি শিপিংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে একটি ৪০ ফুট কনটেইনার ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে খরচ হয় আড়াই হাজার ডলারের মতো। যুদ্ধাবস্থা চলতে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে খরচ পৌঁছাবে সাড়ে ৪ হাজার ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনাকে আটক করা হয়েছে : ইরান
এদিকে এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশে এলপিজি আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে যায়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। তবে চলতি মাসে আমদানি কিছুটা বেড়েছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, দেশে প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন আমদানি হয়েছে এবং এরপরেও আরও কিছু শিপমেন্ট হওয়ার কথা। এতে ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে।
যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো জাহাজ নিষেধাজ্ঞা পায়নি, পেয়েছে কিছু আন্তর্জাতিক জাহাজ। বিকল্প হিসেবে আমরা আর্জেন্টিনা ও অন্যান্য দেশ থেকে এলপিজি আমদানি করছি। আশা করছি ঈদের আগেই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
চট্টগ্রাম সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান রুবেল বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ঈদের আগে প্রচুর চাহিদা থাকে। যেমন- টুপি, গার্মেন্টস পণ্য, মুড়ি, বিস্কিট, চানাচুর। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধের কারণে এগুলো সব আটকে গেছে। এক্সপোর্ট বন্ধ হয়ে আছে। যেগুলো প্রসেসিংয়ে ছিলো এগুলো ব্লক হয়ে আছে ফ্যাক্টরিতে। কোনো এক্সপোর্টই হচ্ছে না। যুদ্ধের কারণে আমরা আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
এ অবস্থায় অতিরিক্ত জ্বালানি ও বীমা খরচ, নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ অন্যান্য বাড়তি ব্যয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কনটেইনার প্রতি আটশ থেকে দেড় হাজারে ডলার যুদ্ধ-ঝুঁকি সারচার্জ আরোপ করেছে অধিকাংশ শিপিং লাইন।
এম এস সি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক (জিএম) আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘একটা লাইন তো একেকভাবে করেছে। আপাতত এক হাজার বা দেড় হাজার পর্যন্ত তারা সার্চ দিয়েছে। অনেকগুলো লাইন আবার ভয়েস টার্মিনেট করে দিয়েছে। অর্থাৎ, যে কার্গোটার ফাইনাল গন্তব্য কোনো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, সেখানে যেহেতু যেতে পারছে না তাহলে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য নামিয়ে দিবে। সেখানেই ভয়েসটা টার্মিনেট হবে।’
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট দীর্ঘায়িত হলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়বে। বাড়বে জ্বালানি সংকট।
বাংলাদেশ ফ্রেইটফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘আমরা স্বস্তির মধ্যে নেই। যেকোনো সময় যদি মনে করেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এটিও বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। বিকল্প যে পথ আছে, সৌদি এবং ওমান যে উপসাগরীয় পথ ব্যবহার করে সে অঞ্চলটা ব্যবহার করে যে এই দুটি দেশ ব্যবহার করা হবে সেটিও এখন পর্যন্ত এক ধরনের ঝুঁকির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের পণ্য।





















এনসিপির সমাবেশস্থলে বোমা বিস্ফোরণ