আর দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে!
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 30
ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলাদেশি সময় শুক্রবার সকাল। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হয়তো শেষবারের মতো দেশের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন। আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে তাঁর সম্ভবত শেষ ম্যাচ। উপস্থিত থাকবেন পরিবারের সদস্যরা। ঠিক তাই হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সামনেই নিজের বিদায়ী ম্যাচ গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জেতালেন লিও। যার মধ্যেই নিজেই দুটি গোল করলেন এলএম ট়েন। শুধু তাই নয়, বিদায় বেলায় চোখে জলও দেখা গেল এই কিংবদন্তির।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল ব্যতিক্রমী এক পরিবেশ। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করলেন মেসি। চোখে জল, মুখে স্মিত হাসি, এই দুইয়ের মিশ্রণে ফুটে উঠেছিল তাঁর দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রতিফলন। গ্যালারির ৮০ হাজার দর্শক তখন একসাথে গলা মিলিয়েছেন, “লিও মেসি, লিও মেসি”, যেন তাঁদের ভালোবাসার ঢেউ পৌঁছে যায় তাঁর হৃদয়ের গভীরে।
ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জুলিয়ান আলভারেজের নিখুঁত পাসে বল পেয়ে ডানদিকে খানিকটা এগিয়ে গিয়ে এক দুর্দান্ত চিপ শটে বল জালে পাঠান মেসি। এই গোল শুধু একটি গোল ছিল না, ছিল এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। প্রায় ২০ বছর আগে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষেই করেছিলেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গোল। একই দলের বিপক্ষেই দিয়েছিলেন নিজের প্রথম ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামার প্রমাণপত্র। শুরু হয়েছিল যাদের বিপক্ষে, বিদায়টাও যেন সেরকমভাবে সুরবদ্ধ হল।
চিলির বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩–০ গোলে জয়
প্রথম গোলের পর ম্যাচে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে লাওতারো মার্টিনেস ও থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে বোঝাপড়ায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বসেন তিনি। চলতি বাছাইপর্বে এটাই ছিল তাঁর অষ্টম গোল, যা তাঁকে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ গোলদাতার আসনে বসায়। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৩৫-এ, আর আর্জেন্টিনার হয়ে মোট গোল হল ১১৪টি।
এই রাতটি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের জন্যই নয়, আবেগের গভীরতায়ও অনন্য হয়ে থাকবে। ওয়ার্ম-আপের সময় থেকেই চোখে জল ছিল মেসির। যেন প্রতিটি মুহূর্তেই তাঁর ভেতরটা কথা বলছিল, এই ক্যারিয়ারের, এই যাত্রার কতটা মূল্যবান ছিল প্রতিটি ধাপ। খেলার শেষে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে করতালি দেন, হাত নেড়ে বিদায় জানান মেসি।
সূত্রের খবর, খেলার শেষে মেসি জানিয়েছেন যে অবসরের ব্যাপারে তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। এলএম১০ বলেছেন, ‘আমার বয়স অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সেকারণে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যে খেলতে পারব না, সেটাই স্বাভাবিক। তবে খেলার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিজের সেরা পারফরম্য়ান্সটা উজাড় করে দিচ্ছি। এই ব্যাপারে আমি এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। গোটা বিষয়টাই ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করছে।’ মেসির এই বক্তব্যের পর তাঁর সমর্থকরা যে অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছেন, তা বলা যেতেই পারে।
২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যগুলো। কিন্তু এদিনের রাত যেন সেই সব জয়ের থেকেও বেশি কিছু, কারণ আজ দেশ তাঁকে জানালো ভালোবাসা আর বিদায়, হয়তো শেষবারের মতো। আর্জেন্টিনার বাছাইপর্বের এই অধ্যায় শেষ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে। তবে মেসির জন্য এই রাতটাই হয়ে থাকল এক “পারফেক্ট ফেয়ারওয়েল”। ইতিহাস লিখলেন তিনি আবারও, নিজের স্টাইলে, নিজের মাটিতে, নিজের ভালোবাসার জার্সি গায়ে।

























অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই