নির্বাচনে কোনোভাবেই যাতে বিতর্কিত কর্মকর্তারা জড়িত না থাকেন: ড. মঈন খান
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 37
আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই যাতে বিতর্কিত কর্মকর্তারা জড়িত না থাকেন নির্বাচন কমিশনকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে এমনটা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিগত তিনটা নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। কাদের দ্বারা হয়েছিল? যারা প্রশাসনে থেকে রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছিল। ১৫ বছরের কর্মকর্তারা ১৫ মাসে পরিবর্তন হবে না। এই বিষয়ে আমরা সচেতন করেছি ইসিকে। বিতর্কিত কর্মকর্তারা যেন আগামী নির্বাচনে কোনোভাবে অংশগ্রহণ না করতে পারে সে বিষয়ে বলেছি।
আগামী নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা হবে না এমন আশা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। কমিশনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিএনপি আগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (স্কুল শিক্ষক) বাদ দেয়ার পক্ষে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বাধ্য করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস নির্বাচন কমিশনকেই তৈরি করতে হবে। কমিশনের নির্বাচন নিয়ে যে মনোভাব দেখা যাচ্ছে, বিএনপি মনে করে এ কমিশন একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট চায় বিএনপি। এ সময় দেশের বাস্তবতায় বিএনপি বিকল্প প্রস্তাবের সুপারিশের পক্ষে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি- জামায়াতকে সতর্ক থাকতে হবে: শামসুজ্জামান দুদু
মঈন খান বলেন, সাধারণ নির্বাচন একটি দিনে বিরাট কর্মযজ্ঞ। ৩০০ নির্বাচন এলাকায় ৪২ হাজার কেন্দ্র আছে। সরকার থেকে তারা ধার করে নিয়ে আসে। ভোটে ১০ লাখ লোক দরকার, তারা কারা? এরা সিভিল, পুলিশ, বিচার বিভাগ থেকে আসেন। বিগত ১৫ বছর প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক তাদের কাজ করবে। তারা যেন বিনা বাঁধায় কাজ করতে পারেন। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম এবং ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে এই অবস্থায় এসেছি। নির্বাচন কমিশনকে বলেছি তারা যেন একটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কমিশনের দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। জানা গেছে, ৩৬ দফার একটি প্রস্তাবনা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে দিয়েছে দলটি।
সেখানে বলা হয়েছে- নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা পোলিং পারসোন্যাল তথা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বমহলের নিকট চিহ্নিত এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়োগ প্রদান করা যাবে না। যেমন : ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য যে, ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকে সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিল করেছে এবং এসব শূন্য পদে তড়িঘড়ি করে দলীয় লোকজন নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিইসির কাছে ওই প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো প্রস্তাব দিইনি।






















অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই