ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিপাইনে টাইফুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 36

ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বুধবার ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। টাইফুনের ফলে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহতম ওই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেবু প্রদেশের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। সেবু প্রদেশ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

নজিরবিহীন বন্যার পানি শহর ও নগরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, গাড়ি, ট্রাক এমনকি বিশাল শিপিং কন্টেইনারগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

সিভিল ডিফেন্সের উপ-প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো স্থানীয় রেডিও আউটলেট ডিজেডএমএম-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেবুতে ৪৯ জন মারা গেছেন। তিনি সামগ্রিক সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

আলেজান্দ্রো বলেন, প্রধান শহরগুলো, উচ্চ নগরায়িত এলাকাগুলো বন্যার কবলে পড়েছে। ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।

ইতিহাসে দীর্ঘতম হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন

বন্যা কমে গেছে। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের রাস্তা আটকে দেওয়া ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা।

বুধবার সকালে এএফপির সাংবাদিকরা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা এ সময় আগের দিন যে সব রাস্তা বন্যায় নদীতে পরিণত হয়েছিল সেগুলো পরিষ্কার করছিল।

৫৩ বছর বয়সী রেনাল্ডো ভার্গারা এএফপিকে বলেন, ‘গতকাল এখানে বন্যা সত্যিই তীব্র ছিল।’ তিনি আরো বলেন, তার ছোট দোকানের সবকিছু ভেসে গেছে। নদী উপচে পড়ায় সেখান থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ে।

ভোর চারটা বা পাঁচটার দিকে, পানির স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে কেউ বাইরে পা রাখতেও পারছিল না। এরকম কিছু এর আগে কখনো ঘটেনি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ চারমাগনে ভারিলা এএফপিকে জানান, কালমেগি সৃষ্ট ভূমিধ্বসের ২৪ ঘন্টা আগে, সেবু নগরীর আশেপাশের এলাকা ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়, যা মাসিক গড়ে ১৩১ মিলিমিটারেরও বেশি ছিল।

মঙ্গলবার, প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার পানি ছিল কেবলই ধ্বংসাত্মক। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম কেবল বাতাস বিপজ্জনক হবে, কিন্তু পানি আমাদের জনগণকে সত্যিই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়গুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। উষ্ণ সমুদ্র টাইফুনগুলোকে দ্রুত শক্তিশালী হতে দেয় এবং উষ্ণ বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ভারী বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে।

টাইফুনের আঘাত থেকে বাঁচাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে ফেলা হয়।

ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে টাইফুনের ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য মোতায়েন করা চারটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি, উত্তর মিন্দানাও দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়েছে।

পূর্ব মিন্দানাও কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শক্তিশালী ঝড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ত্রাণ অভিযানের লক্ষ্যে উপকূলীয় শহর বুটুয়ানে যাওয়ার সময় সুপার হুয়ে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

কয়েক ঘন্টা পরে, বিমান বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মারিয়া ক্রিস্টিনা বাসকো বলেছেন, সেনারা ছয়জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিমানটিতে দুজন পাইলট এবং চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। আমরা ফরেনসিকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য অপেক্ষা করছি।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, টাইফুন কালমেগি পশ্চিম দিকে পালাওয়ানের পর্যটন কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং ১৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।

ফিলিপাইনে প্রতি বছর গড়ে ২০টি ঝড় এবং টাইফুন নিয়মিতভাবে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ভারিলা এএফপিকে বলেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কমপক্ষে ‘তিন থেকে পাঁচটি’ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনে দুটি বড় ঝড় আঘাত হানে। যার একটি সুপার টাইফুন রাগাসা। যেটির আঘাতে তাইওয়ানের কাছে ভবনের ছাদ ভেঙে ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিলিপাইনে টাইফুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বুধবার ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। টাইফুনের ফলে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহতম ওই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেবু প্রদেশের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। সেবু প্রদেশ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

নজিরবিহীন বন্যার পানি শহর ও নগরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, গাড়ি, ট্রাক এমনকি বিশাল শিপিং কন্টেইনারগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

সিভিল ডিফেন্সের উপ-প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো স্থানীয় রেডিও আউটলেট ডিজেডএমএম-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেবুতে ৪৯ জন মারা গেছেন। তিনি সামগ্রিক সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

আলেজান্দ্রো বলেন, প্রধান শহরগুলো, উচ্চ নগরায়িত এলাকাগুলো বন্যার কবলে পড়েছে। ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।

ইতিহাসে দীর্ঘতম হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন

বন্যা কমে গেছে। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের রাস্তা আটকে দেওয়া ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা।

বুধবার সকালে এএফপির সাংবাদিকরা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা এ সময় আগের দিন যে সব রাস্তা বন্যায় নদীতে পরিণত হয়েছিল সেগুলো পরিষ্কার করছিল।

৫৩ বছর বয়সী রেনাল্ডো ভার্গারা এএফপিকে বলেন, ‘গতকাল এখানে বন্যা সত্যিই তীব্র ছিল।’ তিনি আরো বলেন, তার ছোট দোকানের সবকিছু ভেসে গেছে। নদী উপচে পড়ায় সেখান থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ে।

ভোর চারটা বা পাঁচটার দিকে, পানির স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে কেউ বাইরে পা রাখতেও পারছিল না। এরকম কিছু এর আগে কখনো ঘটেনি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ চারমাগনে ভারিলা এএফপিকে জানান, কালমেগি সৃষ্ট ভূমিধ্বসের ২৪ ঘন্টা আগে, সেবু নগরীর আশেপাশের এলাকা ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়, যা মাসিক গড়ে ১৩১ মিলিমিটারেরও বেশি ছিল।

মঙ্গলবার, প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার পানি ছিল কেবলই ধ্বংসাত্মক। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম কেবল বাতাস বিপজ্জনক হবে, কিন্তু পানি আমাদের জনগণকে সত্যিই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়গুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। উষ্ণ সমুদ্র টাইফুনগুলোকে দ্রুত শক্তিশালী হতে দেয় এবং উষ্ণ বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ভারী বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে।

টাইফুনের আঘাত থেকে বাঁচাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে ফেলা হয়।

ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে টাইফুনের ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য মোতায়েন করা চারটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি, উত্তর মিন্দানাও দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়েছে।

পূর্ব মিন্দানাও কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শক্তিশালী ঝড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ত্রাণ অভিযানের লক্ষ্যে উপকূলীয় শহর বুটুয়ানে যাওয়ার সময় সুপার হুয়ে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

কয়েক ঘন্টা পরে, বিমান বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মারিয়া ক্রিস্টিনা বাসকো বলেছেন, সেনারা ছয়জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিমানটিতে দুজন পাইলট এবং চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। আমরা ফরেনসিকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য অপেক্ষা করছি।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, টাইফুন কালমেগি পশ্চিম দিকে পালাওয়ানের পর্যটন কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং ১৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।

ফিলিপাইনে প্রতি বছর গড়ে ২০টি ঝড় এবং টাইফুন নিয়মিতভাবে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ভারিলা এএফপিকে বলেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কমপক্ষে ‘তিন থেকে পাঁচটি’ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনে দুটি বড় ঝড় আঘাত হানে। যার একটি সুপার টাইফুন রাগাসা। যেটির আঘাতে তাইওয়ানের কাছে ভবনের ছাদ ভেঙে ১৪ জনের মৃত্যু হয়।