ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক নজরে শেখ হাসিনার মামলার বিচারকাজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 53

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হবে।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।

চব্বিশের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে যে পাঁচ অভিযোগ

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মামলায় আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজস্বাক্ষী) হয়েছেন। দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা। শুরু থেকেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শেখ হাসিনা।

৭ মাসের তদন্ত শেষে ১২ মে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয় চিফ প্রসিকিউটরের কাছে। এতে ৮১ জনের জবানবন্দি ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১,৪০০ মানুষের হত্যার তথ্য যুক্ত করা হয়।

পরে ১ জুন পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দেয় প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেদিনই দেশের ইতিহাসে প্রথমবার আদালতের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার হয়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও গণবিজ্ঞপ্তি জারির পরও আত্মসমর্পণ না করায় পলাতক হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে আমির হুসেনকে আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল।

১০ জুলাই আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। একই দিনে সাবেক আইজিপি মামুন নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ৩ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত, চিকিৎসক, সমন্বয়ক, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গবেষক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। ২৮ কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর।

১২ অক্টোবর শুরু হয় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন জানায়—শুধু আন্দোলন দমনে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করেছে ৩ লাখ ৫ হাজার গুলি, যার মধ্যে ঢাকায় ব্যবহৃত হয়েছে ৯৫ হাজার। ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সব বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা ঘোষণা করেন—রায় দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উস্কানি ও প্ররোচনাসহ পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন জমা দিয়েছে ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রমাণ। আলামতের মধ্যে রয়েছে ৬৯টি অডিও ক্লিপ, তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর এবং হত্যাকাণ্ডের ১৭টি ভিডিও।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এক নজরে শেখ হাসিনার মামলার বিচারকাজ

আপডেট সময় : ১১:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হবে।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।

চব্বিশের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে যে পাঁচ অভিযোগ

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মামলায় আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজস্বাক্ষী) হয়েছেন। দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা। শুরু থেকেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শেখ হাসিনা।

৭ মাসের তদন্ত শেষে ১২ মে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয় চিফ প্রসিকিউটরের কাছে। এতে ৮১ জনের জবানবন্দি ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১,৪০০ মানুষের হত্যার তথ্য যুক্ত করা হয়।

পরে ১ জুন পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দেয় প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেদিনই দেশের ইতিহাসে প্রথমবার আদালতের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার হয়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও গণবিজ্ঞপ্তি জারির পরও আত্মসমর্পণ না করায় পলাতক হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে আমির হুসেনকে আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল।

১০ জুলাই আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। একই দিনে সাবেক আইজিপি মামুন নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ৩ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত, চিকিৎসক, সমন্বয়ক, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গবেষক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। ২৮ কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর।

১২ অক্টোবর শুরু হয় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন জানায়—শুধু আন্দোলন দমনে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করেছে ৩ লাখ ৫ হাজার গুলি, যার মধ্যে ঢাকায় ব্যবহৃত হয়েছে ৯৫ হাজার। ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সব বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা ঘোষণা করেন—রায় দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উস্কানি ও প্ররোচনাসহ পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন জমা দিয়েছে ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রমাণ। আলামতের মধ্যে রয়েছে ৬৯টি অডিও ক্লিপ, তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর এবং হত্যাকাণ্ডের ১৭টি ভিডিও।