ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি আচরণবিধি মানতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সিইসির আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 54

নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম নাসির উদ্দীন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের চতুর্থ দিনে আজ (বুধবার, ১৯ নভেম্বর) তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।’ একইসঙ্গে দলীয় প্রার্থীদেরও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

সিইসি নাসির উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের প্রত্যাশা, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপালনে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি, যার প্রধান শর্ত আচরণবিধি মেনে চলা।

নির্বাচন সফল করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাকেই সবচেয়ে বড় বলে আখ্যায়িত করেন সিইসি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়েও ভোটে বড় ভূমিকা রাজনৈতিক দলগুলোর। দলগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি চাপ নিতে হয় না।

তিনি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন। সব দল নিজ নিজ কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য উৎসাহিত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতা; উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা

তিনি বলেন, গত ১০-১৫ বছরে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভোট-বিমুখতা সৃষ্টি হয়েছিল। এজন্য আপনারা, জাতীয় নেতৃবৃন্দ, পলিটিক্যাল লিডাররা…সরাসরি তৃণমূলের সাথে যাদের সম্পর্ক…আপনারা জনগণকে একটু উদ্বুদ্ধ করে একটু ভূমিকা রাখবেন। আমরা আশা করি যাতে মানুষ ভোট কেন্দ্রে আসে এবং ব্যাপক সংখ্যায় আসে।

রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাইতেও বড় ভূমিকা রাখে রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রার্থীরা। অতীতে এমন নজির দেখা গেছে। দলগুলো আচরণবিধি পরিপালনে তাদের প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, কিভাবে আমরা সবাই মিলে রাজনৈতিক দল এবং দেশের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাই মিলে কিভাবে আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারি সেই লক্ষ্যে আমরা একসাথে কাজ করব।

আজ নির্বাচন কমিশনের আয়োজিত সংলাপে অংশ নেয় জামায়াত, এনসিপিসহ ৬টি রাজনৈতিক দল। সংলাপের প্রথম পর্বে জামায়াতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির অভিযোগ করে বলেন, ‘আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।’ তার দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখনও অনেক সংশয় রয়েছে।

এছাড়া সংলাপে অংশ নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রবাসীরা গণভোটে কীভাবে ভোট দেবেন, তা স্পষ্ট নয়।’ তিনি প্রতি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের দাবিও জানান।

সংলাপে এনসিপির পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ডা. তাসনিম জারা।

বিকেলে দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে অংশ নেবে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্যসহ আরও ছয়টি রাজনৈতিক দল।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনি আচরণবিধি মানতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সিইসির আহ্বান

আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম নাসির উদ্দীন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের চতুর্থ দিনে আজ (বুধবার, ১৯ নভেম্বর) তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।’ একইসঙ্গে দলীয় প্রার্থীদেরও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

সিইসি নাসির উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের প্রত্যাশা, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপালনে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি, যার প্রধান শর্ত আচরণবিধি মেনে চলা।

নির্বাচন সফল করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাকেই সবচেয়ে বড় বলে আখ্যায়িত করেন সিইসি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়েও ভোটে বড় ভূমিকা রাজনৈতিক দলগুলোর। দলগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি চাপ নিতে হয় না।

তিনি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন। সব দল নিজ নিজ কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য উৎসাহিত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতা; উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা

তিনি বলেন, গত ১০-১৫ বছরে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভোট-বিমুখতা সৃষ্টি হয়েছিল। এজন্য আপনারা, জাতীয় নেতৃবৃন্দ, পলিটিক্যাল লিডাররা…সরাসরি তৃণমূলের সাথে যাদের সম্পর্ক…আপনারা জনগণকে একটু উদ্বুদ্ধ করে একটু ভূমিকা রাখবেন। আমরা আশা করি যাতে মানুষ ভোট কেন্দ্রে আসে এবং ব্যাপক সংখ্যায় আসে।

রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাইতেও বড় ভূমিকা রাখে রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রার্থীরা। অতীতে এমন নজির দেখা গেছে। দলগুলো আচরণবিধি পরিপালনে তাদের প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, কিভাবে আমরা সবাই মিলে রাজনৈতিক দল এবং দেশের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাই মিলে কিভাবে আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারি সেই লক্ষ্যে আমরা একসাথে কাজ করব।

আজ নির্বাচন কমিশনের আয়োজিত সংলাপে অংশ নেয় জামায়াত, এনসিপিসহ ৬টি রাজনৈতিক দল। সংলাপের প্রথম পর্বে জামায়াতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির অভিযোগ করে বলেন, ‘আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।’ তার দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখনও অনেক সংশয় রয়েছে।

এছাড়া সংলাপে অংশ নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রবাসীরা গণভোটে কীভাবে ভোট দেবেন, তা স্পষ্ট নয়।’ তিনি প্রতি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের দাবিও জানান।

সংলাপে এনসিপির পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ডা. তাসনিম জারা।

বিকেলে দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে অংশ নেবে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্যসহ আরও ছয়টি রাজনৈতিক দল।