ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে শীতের অনুভূতি, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 51

ভোর থেকে টুপটাপ শব্দে ঝরছে শিশির বিন্দু আর দুর্বাঘাসে ডগায় মুক্তো দানার মতো জ্বল জ্বল করছে শিশির। শিশির বিন্দু যেন প্রকৃতির জমিনে টিপ পরিয়ে দিয়েছে। ভোর থেকে সকাল কুয়াশার আবহের গ্রামাঞ্চলের পথ-ঘাট। পাখির কলকাকলী আর সোনা মাখা রোদ যেন বলে দিচ্ছে হেমন্তের বার্তা।

হেমন্তের হাত ধরেই আসে শীত। তাই প্রকৃতিতেও ফুটে উঠেছে নানা বৈচিত্র। নানা রঙের ফুলে ফুলে ভরে গেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। প্রকৃতি প্রেমী, শিশু-বৃদ্ধরাও এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পিছিয়ে নেই। সেই টানে ছুটে আসছেন অনেকেই। শীতের আমেজে এদিকে এবার ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাতাসে আর্দ্রতা কমায় রাজধানীতে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। আজ (সোমবার, ২৪ নভেম্বর) সকালে ছিলো হালকা কুয়াশা। গতকাল (রোববার, ২৩ নভেম্বর) ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আজ সকাল ৬টায় তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাবে। দিনব্যাপী তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ঢাকা ছাড়লেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

অন্যদিকে, পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ছে। ভোর থেকে সকালের দিকে হিমেল হাওয়া ও উচ্চ আর্দ্রতায় শীত স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

আজ (সোমবার, ২৪ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ সপ্তাহের অন্যতম কম তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগের দিন রোববার (২৩ নভেম্বর) একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ তথ্য জানান কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

এ আবহাওয়াবিদ বলেন, আজ ২৩ নভেম্বর পাওয়া সবশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসারে, আগামী ২৬/২৭ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে (আন্দামান ও নিকবার দ্বীপের দক্ষিণ পাশে) একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এ লঘুচাপটি পর্যায়ক্রমে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও সবশেষ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে― এ বিষয়ে সব আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল একমত হলেও সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি কেমন পরিমাণে শক্তিশালী হবে ও কোন স্থানের উপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করবে, এই বিষয়ে বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল ভিন্ন-ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী যেকোনো স্থানের উপর দিয়ে উপকূলে আঘাত করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ২৬ নভেম্বর অধিক নিশ্চয়তা সহকারে জানা যাবে- সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি কেমন পরিমাণে শক্তিশালী হবে ও কোন স্থানের উপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করবে।

সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ডিসেম্বর মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ফলে জমিতে থাকা পাকা আমন ধান কাটা ও মাড়াই করা শেষ করার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।

১ ডিসেম্বরের পর থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উত্তাল হওয়ার শুরু করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ১ ডিসেম্বরের মধ্যে উপকূলে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে সমুদ্রে মাছ ধরা সব ট্রলারকে। ৩০ নভেম্বরের পর নতুন করে সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মধ্যবর্তী সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাড়ছে শীতের অনুভূতি, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

ভোর থেকে টুপটাপ শব্দে ঝরছে শিশির বিন্দু আর দুর্বাঘাসে ডগায় মুক্তো দানার মতো জ্বল জ্বল করছে শিশির। শিশির বিন্দু যেন প্রকৃতির জমিনে টিপ পরিয়ে দিয়েছে। ভোর থেকে সকাল কুয়াশার আবহের গ্রামাঞ্চলের পথ-ঘাট। পাখির কলকাকলী আর সোনা মাখা রোদ যেন বলে দিচ্ছে হেমন্তের বার্তা।

হেমন্তের হাত ধরেই আসে শীত। তাই প্রকৃতিতেও ফুটে উঠেছে নানা বৈচিত্র। নানা রঙের ফুলে ফুলে ভরে গেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। প্রকৃতি প্রেমী, শিশু-বৃদ্ধরাও এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পিছিয়ে নেই। সেই টানে ছুটে আসছেন অনেকেই। শীতের আমেজে এদিকে এবার ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাতাসে আর্দ্রতা কমায় রাজধানীতে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। আজ (সোমবার, ২৪ নভেম্বর) সকালে ছিলো হালকা কুয়াশা। গতকাল (রোববার, ২৩ নভেম্বর) ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আজ সকাল ৬টায় তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাবে। দিনব্যাপী তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ঢাকা ছাড়লেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

অন্যদিকে, পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ছে। ভোর থেকে সকালের দিকে হিমেল হাওয়া ও উচ্চ আর্দ্রতায় শীত স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

আজ (সোমবার, ২৪ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ সপ্তাহের অন্যতম কম তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগের দিন রোববার (২৩ নভেম্বর) একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ তথ্য জানান কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

এ আবহাওয়াবিদ বলেন, আজ ২৩ নভেম্বর পাওয়া সবশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসারে, আগামী ২৬/২৭ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে (আন্দামান ও নিকবার দ্বীপের দক্ষিণ পাশে) একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এ লঘুচাপটি পর্যায়ক্রমে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও সবশেষ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে― এ বিষয়ে সব আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল একমত হলেও সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি কেমন পরিমাণে শক্তিশালী হবে ও কোন স্থানের উপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করবে, এই বিষয়ে বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল ভিন্ন-ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী যেকোনো স্থানের উপর দিয়ে উপকূলে আঘাত করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ২৬ নভেম্বর অধিক নিশ্চয়তা সহকারে জানা যাবে- সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি কেমন পরিমাণে শক্তিশালী হবে ও কোন স্থানের উপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করবে।

সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ডিসেম্বর মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ফলে জমিতে থাকা পাকা আমন ধান কাটা ও মাড়াই করা শেষ করার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।

১ ডিসেম্বরের পর থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উত্তাল হওয়ার শুরু করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ১ ডিসেম্বরের মধ্যে উপকূলে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে সমুদ্রে মাছ ধরা সব ট্রলারকে। ৩০ নভেম্বরের পর নতুন করে সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মধ্যবর্তী সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।