নোয়াখালীতে চর দখল নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৫
- আপডেট সময় : ০৯:২১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 90
নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে এ তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সুখচর ইউনিয়নের জাগলার চরে দিনভর থেমে থেমে সংঘর্ষ ঘটে। সবশেষ খবর, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পর সংঘর্ষ থামলেও সেখানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন আলাউদ্দিন (৪০)। তিনি সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, এ ঘটনায় অন্তত পক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অন্তত পক্ষে ১০ জন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনায় সামছুদ্দিন, আলা উদ্দিনসহ ৫ জনের মরদেহ পওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জাগলার চরে বর্তমানে কয়েক শত ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। চরের অর্ধেক জমি খাস এবং অর্ধেক ব্যক্তি মালিকানা বা বয়ার সম্পত্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যন্ত হাতিয়ার হরণি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিক, ফরিদ কমান্ডার (মেম্বার) এর নেতৃত্বে সামছুদ্দিন চরের জমি দখল করে প্রতি একর ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করে ভূমিহীনদের কাছে বিক্রি করে। কিন্তু হঠাৎ করে গত কিছুদিন বিক্রির টাকা মুশফিক ও ফরিদ কামন্ডারকে দিচ্ছে না। তারই জেরে মুশফিক ও ফরিদের হয়ে মঙ্গলবার ভোরে আলা উদ্দিন, শীর্ষ ডাকাত কাউয়া কামাল, নিজাম মেম্বার এর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী চর দখলে যায়। এক পর্যায়ে চরে থাকা সামছুদ্দিনের লোকজনের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি শুরু হয়।
দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শিক্ষা উপদেষ্টা
এতে আলা উদ্দিনসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। গোলাগুলিতে টিকতে না পেরে সামছুদ্দিনের বেশিরভাগ লোক পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সামছুদ্দিন প্রতিপক্ষ আলা উদ্দিনকে গুলি করে। পরে আলা উদ্দিনের লোকজন সামছুদ্দিন, তার ছেলে মোবারক, তার কর্মী জুম্মাসহ কয়েকজনকে গুলি, কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এতে সামছুদ্দিন, তার ছেলে মোবারক, কর্মী জুম্মাসহ তার ৫ জন নিহত হয়। এ দিকে বিকেলে আলা উদ্দিনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা
করে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, জাগলার চরের জমি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এ সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী ওই চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনী আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রি করে। উভয় পক্ষ আলাদাভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালাতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় কোপা সামছু বাহিনীকে চর থেকে বিতাড়িত করে জমির দখল নিতে আলাউদ্দিন বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, জাগলার চরে সংঘর্ষে তিন বাহিনী— ফরিদ কমান্ডার, শামসু বাহিনী এবং আলাউদ্দিন বাহিনী মুখোমুখি হয়ে গুলি চালিয়েছে। এতে সামসু বাহিনীর প্রধান এবং আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তবে ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে গেছে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চর এলাকায় উশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের সময়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীগুলো এখান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।





















খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩