ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন দিগন্তের আশা!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 103
117

একদিন বাদেই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিকে তারেক রহমানের যাত্রাপথ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা না গেলে, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত তৈরির আশা রয়েছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর)। দিনটিকে ঐতিহাসিক মাত্রা দিতে কয়েক লাখ কর্মী-সমর্থকের ভিড় সামলে তারেক রহমানের চলাচল নিরাপদ রাখাই এখন দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিমানবন্দরে অবতরণ করেই তারেক রহমানের গাড়িবহর যাত্রা করবে কুড়িল ৩০০ ফিট এলাকায়। যেখানে সংবর্ধনা দেয়া হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ থাকবে জামায়াত-এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে।

অভ্যর্থনা শেষে তারেক রহমান যাত্রা করবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে। এরপরই ফিরবেন গুলশান-২ এ নিজ বাসভবন ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। যার পাশেই বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজা।

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক?

তারেক রহমানের এ যাত্রাপথে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। তবে এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনাস্থল পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে তারেক রহমানের গাড়ি থেকে নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট দূরত্ব রক্ষা করা না গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকির শঙ্কা থাকবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) জগলুল আহসান বলেন, ‘উনি যেসময় রাস্তা দিয়ে যাবেন সেসময় রাস্তার দুই পাশে যে জনগণ আছে তারা কতটুকু দূরত্বে থাকবেন, কতটুকু আসতে পারবেন, এ পুরো ব্যাপারকেই সিকিউরিটির আওতায় নিয়ে এসে করতে হবে। এখন উনি এয়ারপোর্টে আসার পরই যদি উন্মুক্ত করে সব জনগণকে তার কাছে ফুল দেয়ার জন্য যেতে দেন তাহলে মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সে সুযোগ নিতে চাইবে।’

পরদিন শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান। এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার হওয়ার আবেদন করবেন তিনি।

তারেক রহমানের এ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে ফেরার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের জাতীয় নেতায় পরিণত হবার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জায়গায় আমাদের নেতৃত্বের কিন্তু আসলেই সংকট আমরা দেখতে পাচ্ছি। খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়াতে এটা আরও বেশি সমস্যা বলে আমার কাছে মনে হয়। এখন এ মুহূর্তে দেশে একটা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা প্রয়োজন। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা না শুধু, জাতিকেও ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। জাতিকেও দিকনির্দেশনা দেয়া, সে ধরনের নেতৃত্ব তো নেই আসলে। সেখানে তারেক জিয়ার একটা সুযোগ আছে। সে জায়গাটা পূরণ করার।’

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন আগামীর নির্বাচনে বিএনপির ভোটের লড়াই ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে? সেসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হবে তার নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার সফলতার মাপকাঠিতে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন দিগন্তের আশা!

আপডেট সময় : ০১:০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
117

একদিন বাদেই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিকে তারেক রহমানের যাত্রাপথ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা না গেলে, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত তৈরির আশা রয়েছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর)। দিনটিকে ঐতিহাসিক মাত্রা দিতে কয়েক লাখ কর্মী-সমর্থকের ভিড় সামলে তারেক রহমানের চলাচল নিরাপদ রাখাই এখন দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিমানবন্দরে অবতরণ করেই তারেক রহমানের গাড়িবহর যাত্রা করবে কুড়িল ৩০০ ফিট এলাকায়। যেখানে সংবর্ধনা দেয়া হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ থাকবে জামায়াত-এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে।

অভ্যর্থনা শেষে তারেক রহমান যাত্রা করবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে। এরপরই ফিরবেন গুলশান-২ এ নিজ বাসভবন ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। যার পাশেই বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজা।

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক?

তারেক রহমানের এ যাত্রাপথে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। তবে এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনাস্থল পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে তারেক রহমানের গাড়ি থেকে নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট দূরত্ব রক্ষা করা না গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকির শঙ্কা থাকবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) জগলুল আহসান বলেন, ‘উনি যেসময় রাস্তা দিয়ে যাবেন সেসময় রাস্তার দুই পাশে যে জনগণ আছে তারা কতটুকু দূরত্বে থাকবেন, কতটুকু আসতে পারবেন, এ পুরো ব্যাপারকেই সিকিউরিটির আওতায় নিয়ে এসে করতে হবে। এখন উনি এয়ারপোর্টে আসার পরই যদি উন্মুক্ত করে সব জনগণকে তার কাছে ফুল দেয়ার জন্য যেতে দেন তাহলে মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সে সুযোগ নিতে চাইবে।’

পরদিন শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান। এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার হওয়ার আবেদন করবেন তিনি।

তারেক রহমানের এ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে ফেরার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের জাতীয় নেতায় পরিণত হবার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জায়গায় আমাদের নেতৃত্বের কিন্তু আসলেই সংকট আমরা দেখতে পাচ্ছি। খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়াতে এটা আরও বেশি সমস্যা বলে আমার কাছে মনে হয়। এখন এ মুহূর্তে দেশে একটা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা প্রয়োজন। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা না শুধু, জাতিকেও ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। জাতিকেও দিকনির্দেশনা দেয়া, সে ধরনের নেতৃত্ব তো নেই আসলে। সেখানে তারেক জিয়ার একটা সুযোগ আছে। সে জায়গাটা পূরণ করার।’

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন আগামীর নির্বাচনে বিএনপির ভোটের লড়াই ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে? সেসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হবে তার নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার সফলতার মাপকাঠিতে।