নোয়াখালীকে কাঁদিয়ে সিলেটের নাটকীয় জয়
- আপডেট সময় : ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 107
সিলেট টাইটান্সের জয়ের জন্য তিন ওভারে বাকি ২৪ রান। বোলিংয়ে এলেন মেহেদি হাসান রানা। প্রথম বলই ‘নো’ করে বসলেন বাঁহাতি পেসার। তবে ঘুরে দাঁড়ালেন দারুণভাবে। ওভারের শেষ তিন বলে তিনি নিলেন টানা ৩ উইকেট, করলেন হ্যাটট্রিক। একইসঙ্গে ম্যাচে ফিরল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
রানার হ্যাটট্রিকে পর হাসান মাহমুদও করলেন চমৎকার ওভার। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়াল ৬ বলে ১৩ রানে। প্রথম দুই বল ডট করলেও পরেরটি ‘বিমার’ করে বসলেন সাব্বির হোসেন। ফ্রি হিট পেয়ে ছক্কা মেরে দিলেন ইথান ব্রুকস।
সমীকরণ নামল ৩ বলে ৬ রানে। পরের বল চার মেরে দিলেন ব্রুকস। কিন্তু পঞ্চম বলে রান আউট হয়ে গেলেন তিনি। সিলেটের তখন বাকি ১ উইকেট। আর শেষ বলে করতে হবে ২ রান। ওয়াইড করলেন সাব্বির। পরের বল লেগ বাই থেকে ১ রান নিয়ে সিলেটকে জয় এনে দিলেন সালমান ইরশাদ।
সাব্বির-মামুনদের ব্যাটে শান্তদের হারাল ঢাকা
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবারের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ১ উইকেটে হারাল নোয়াখালী। আগে ব্যাট করে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ফিফটিতে পায় ১৪৩ রানের পুঁজি। পরে নাটকীয় ব্যাটিং ধসের পরও শেষ বলে জিতে যায় স্বাগতিক সিলেট।
নিজেদের শহরের মাঠে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয়টিতেই জয়ের স্বাদ পেল সিলেট। আর এই প্রথম বিপিএল খেলতে এসে পরপর দুই ম্যাচ হেরে গেল নোয়াখালী।
চরম নাটকীয় ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসের ১৮তম ওভারে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন রানা। সব মিলিয়ে বিপিএলে এটি নবম হ্যাটট্রিক। এছাড়া টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হ্যাটট্রিক করা অষ্টম বোলার তিনি।
রান তাড়ায় সিলেটের শুরুটা তেমন ভালো ছিল না। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে সাইম আইয়ুব, রনি তালুকদার ও জাকির হাসান অল্প রানে আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক দলটি।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ৬৫ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ম্যাচে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা ইমন এবার করেন ৪১ বলে ৬০ রান। ১৬তম ওভারে জহির খানের গুগলিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
ইমনের ফেরা দিয়েই নামে সিলেটের ধস। রানার হ্যাটট্রিকে মাত্র ৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। সেখান থেকে সাব্বিরের এলোমেলো শেষ ওভারের সৌজন্যে ম্যাচ জিততে পারে স্বাগতিক সিলেট।
মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৩৩ রান। শেষ ওভারের নায়ক ব্রুকস করেন ১৩ বলে ১৬ রান। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন রানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা নোয়াখালীর শুরুটাও ছিল একদম যাচ্ছেতাই। দুই ওভারের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফেরেন মাজ সাদাকাত (১ বলে ০), হাবিবুর রহমান সোহান (২ বলে ০) ও হায়দার আলি (৩ বলে ০)।
সৈকত আলি ও সাব্বির চেষ্টা করেন হাল ধরতে। কিন্তু সফল হননি। ১৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭০ রান করতে পারে নোয়াখালী। পরে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জাকের আলি অনিক।
দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ৩৯ বলে গড়েন ৬৬ রানের জুটি। অপরাজিত ইনিংসে ৫১ বলে ৬৬ রান করেন অঙ্কন। জাকেরের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ২৯ রান।
আগুনঝরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (সাদাকাত ০, সোহান ০, সৈকত ২৪, হায়দার ০, অঙ্কন ৬১, সাব্বির ১৫, জাকের ২৯, রাজা ০, হাসান ১*; আমির ৪-০-২৫-১, খালেদ ৪-১-২৩-৪, সালমান ৪-০-৩৬-০, নাসুম ৪-০-২৮-০, সাইম ৪-০-২৫-২)
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৪৪/৯ (সাইম ০, রনি ৯, জাকির ১৩, ইমন ৬০, মিরাজ ৩৩, আফিফ ৩, ব্রুকস ১৬ ,নাসুম ০, খালেদ ০, আমির ১*, সালমান ১*; হাসান ৪-০-১৯-২, রানা ৪-০-৩৪-৪, রাজা ৪-০-২৪-১, সাব্বির ৩-০-২৯-০, জহির ৪-০-২৩-১, সাদাকাত ১-০-১৩-০)
ফল: সিলেট টাইটান্স ১ উইকেটে জয়ী


























খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩