ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার চিরবিদায়: নেতৃত্বের পরীক্ষায় তারেক রহমান ও বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 67

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর কেমন হবে বিএনপির রাজনীতি তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। টানা চার দশক খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বিএনপিকে একাধিকবার দেশ পরিচালনার সুযোগ এনে দিয়েছে। এরমধ্যেই দলের হাল ধরেছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্যতা তৈরি হলেও সংকট কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা আছে বিএনপির। তবে দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচনে জয় লাভ করাসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে তারেক রহমানের সামনে।

৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দল মত, রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই জনস্রোত জানান দিচ্ছে- কর্মই অবিস্মরণীয় করে তোলে মানুষকে। দল হিসেবে বিএনপির যে সংকট আছে, তা হয়তো কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের এই মহা জনসমুদ্রের প্রভাবে। কিন্তু স্থায়ীভাবে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরিতে- জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরম্পরা কতটা ধরে রাখতে পারবে দলটি, সে প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রাসঙ্গিক।

একদিকে খালেদা জিয়ার চিরবিদায়, আরেকদিকে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ভোটের রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে? তারেক রহমান চলমান নির্বাচনি বৈতরণী কিভাবে পার হবেন? এসব প্রশ্ন ঘিরে নানান মত রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষ হিসেবে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ: তারেক রহমান

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে শূন্যতা তৈরি হলো সে শূন্যতা খুব সহজে পূরণ হবে না। খুব নিকট ভবিষ্যতে এ শূন্যতা পূরণ হবে বলে আমার মনে পড়ছে না।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন তারেক রহমান। যা উত্তরণে বিচক্ষণতা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করবে বিএনপি ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরি বলেন, ‘তারেক জিয়া উনি তো দূরে ছিলেন। উনি দলকে কতটুক সংঘবদ্ধ করতে পারবেন, কতটুক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন এটা তো আমরা এখনো জানি না। কিন্তু খালেদা জিয়ারটা তো আমরা জানতাম। সে একটা কথা বললে দল সেটা মেনে নিতো।’

অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃতিতে শূন্যস্থান থাকে না। বিএনপিও যে এ মুহূর্তে একেবারে নেতৃত্বশূন্য হয়ে গেলো তা কিন্তু নয়। তার সন্তান রয়েছে এবং তার প্রতিও মানুষের ভালোবাসা রয়েছে এবং সেই ভালোবাসার অভিব্যক্তিও আমরা তার নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর দেখতে পেয়েছি। বিপুল জনপ্রিয়তা তিনি পেয়েছেন। তার এ জনপ্রিয়তাকে যদি তিনি সঠিক পথে, জনগণের স্বার্থে কাজে লাগান তাহলে বিএনপি পথ হারাবে না।’

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরি বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তারেক জিয়া সেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না সেটা আমাদের এখনো দেখতে হবে। খালেদা জিয়া তো একজন ক্যারিশমেটিক লিডার ছিলেন। উনি যদি সুস্থ থাকতেন এবং ভোটের মাঠে যেতেন তাহলে তো বিএনপির আর কিছু চিন্তা করতে হতো না। উনি না থাকার জন্য ভোটের মাঠে এটার প্রভাব পড়বে।’

বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থতায় ভুগেছেন খালেদা জিয়া। সেই সময় থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করছেন তারেক রহমানই। যদিও এই পুরো সময়ে বেগম খালেদা জিয়াই ছিলেন ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়িত্ব এবার তারেক রহমানের। কতটা সফল হবেন তা হয়তো সময় নির্ধারণ করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার চিরবিদায়: নেতৃত্বের পরীক্ষায় তারেক রহমান ও বিএনপি

আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর কেমন হবে বিএনপির রাজনীতি তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। টানা চার দশক খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বিএনপিকে একাধিকবার দেশ পরিচালনার সুযোগ এনে দিয়েছে। এরমধ্যেই দলের হাল ধরেছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্যতা তৈরি হলেও সংকট কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা আছে বিএনপির। তবে দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচনে জয় লাভ করাসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে তারেক রহমানের সামনে।

৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দল মত, রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই জনস্রোত জানান দিচ্ছে- কর্মই অবিস্মরণীয় করে তোলে মানুষকে। দল হিসেবে বিএনপির যে সংকট আছে, তা হয়তো কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের এই মহা জনসমুদ্রের প্রভাবে। কিন্তু স্থায়ীভাবে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরিতে- জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরম্পরা কতটা ধরে রাখতে পারবে দলটি, সে প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রাসঙ্গিক।

একদিকে খালেদা জিয়ার চিরবিদায়, আরেকদিকে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ভোটের রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে? তারেক রহমান চলমান নির্বাচনি বৈতরণী কিভাবে পার হবেন? এসব প্রশ্ন ঘিরে নানান মত রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষ হিসেবে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ: তারেক রহমান

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে শূন্যতা তৈরি হলো সে শূন্যতা খুব সহজে পূরণ হবে না। খুব নিকট ভবিষ্যতে এ শূন্যতা পূরণ হবে বলে আমার মনে পড়ছে না।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন তারেক রহমান। যা উত্তরণে বিচক্ষণতা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করবে বিএনপি ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরি বলেন, ‘তারেক জিয়া উনি তো দূরে ছিলেন। উনি দলকে কতটুক সংঘবদ্ধ করতে পারবেন, কতটুক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন এটা তো আমরা এখনো জানি না। কিন্তু খালেদা জিয়ারটা তো আমরা জানতাম। সে একটা কথা বললে দল সেটা মেনে নিতো।’

অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃতিতে শূন্যস্থান থাকে না। বিএনপিও যে এ মুহূর্তে একেবারে নেতৃত্বশূন্য হয়ে গেলো তা কিন্তু নয়। তার সন্তান রয়েছে এবং তার প্রতিও মানুষের ভালোবাসা রয়েছে এবং সেই ভালোবাসার অভিব্যক্তিও আমরা তার নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর দেখতে পেয়েছি। বিপুল জনপ্রিয়তা তিনি পেয়েছেন। তার এ জনপ্রিয়তাকে যদি তিনি সঠিক পথে, জনগণের স্বার্থে কাজে লাগান তাহলে বিএনপি পথ হারাবে না।’

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরি বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তারেক জিয়া সেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না সেটা আমাদের এখনো দেখতে হবে। খালেদা জিয়া তো একজন ক্যারিশমেটিক লিডার ছিলেন। উনি যদি সুস্থ থাকতেন এবং ভোটের মাঠে যেতেন তাহলে তো বিএনপির আর কিছু চিন্তা করতে হতো না। উনি না থাকার জন্য ভোটের মাঠে এটার প্রভাব পড়বে।’

বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থতায় ভুগেছেন খালেদা জিয়া। সেই সময় থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করছেন তারেক রহমানই। যদিও এই পুরো সময়ে বেগম খালেদা জিয়াই ছিলেন ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়িত্ব এবার তারেক রহমানের। কতটা সফল হবেন তা হয়তো সময় নির্ধারণ করবে।