উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 59
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে এবং নির্বাচনপূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারির ছুটির পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, গতকাল বুধবার নির্বাচন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটিই উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে।
১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব
প্রেস সচিব আরও জানান, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি আলাদা ছুটির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি—এই দুই দিন ছুটি পাবেন। এর সঙ্গে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারির ছুটি যুক্ত হয়ে তাঁদের জন্য টানা তিন দিনের ছুটি থাকবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি শুধু শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
শফিকুল আলম বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি যেহেতু ভোটের আগের দিন, তাই ঢাকা, শিল্পনগরী বা অন্যান্য বড় শহরে অবস্থানরত অনেক ভোটার নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান প্রেস সচিব।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।
কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া দেশি-বিদেশি সকল উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণা-সমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ইউজিসি নিয়মিতভাবে তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে ঢাকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন ধারা সূচিত হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই