ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে ২৫ শতাংশ প্রার্থীর ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। এই ভোটে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন, অর্থাৎ প্রার্থীর ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এইসব প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। তাদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

প্রার্থীদের ইশতেহার নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এবারের ভোটে অংশ নেয়া ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলছে, বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত।

শুরু হলো নির্বাচনি প্রচারণা: প্রার্থীদের যা করতে মানা

চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী; দুই দলের হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শতকোটি টাকার মালিক।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। যা বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নির্বাচনে ঋণখেলাপি: ফাঁক না সদিচ্ছার অভাব?

তবে, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

এছাড়া, ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নাম কর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাছে ইসি জিম্মি। আনেক প্রার্থী ঋণখেলপি হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ দেয়ায় ইসি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেনি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রার্থীদের তথ্য গোপনের তথ্য-ও টিআইবির হাতে আছে বলে জানানো হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনে ২৫ শতাংশ প্রার্থীর ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। এই ভোটে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন, অর্থাৎ প্রার্থীর ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এইসব প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। তাদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

প্রার্থীদের ইশতেহার নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এবারের ভোটে অংশ নেয়া ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলছে, বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত।

শুরু হলো নির্বাচনি প্রচারণা: প্রার্থীদের যা করতে মানা

চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী; দুই দলের হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শতকোটি টাকার মালিক।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। যা বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নির্বাচনে ঋণখেলাপি: ফাঁক না সদিচ্ছার অভাব?

তবে, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

এছাড়া, ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নাম কর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাছে ইসি জিম্মি। আনেক প্রার্থী ঋণখেলপি হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ দেয়ায় ইসি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেনি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রার্থীদের তথ্য গোপনের তথ্য-ও টিআইবির হাতে আছে বলে জানানো হয়।