ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতির জন্য ‘বড় ঝুঁকি’ হতে পারে পে-স্কেল: টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 145
167

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল (New Pay Scale) ঘোষণা বা বেতন বৃদ্ধি (Salary Hike) নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় (Revenue Income) এবং বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবতায় এই মুহূর্তে নতুন পে-স্কেলের উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)। সংস্থাটির মতে, ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার (Administrative Reform) এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে বেতন বাড়ানো হলে তা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি (Major Economic Risk) হয়ে দাঁড়াতে পারে।

টিআইবি (TIB) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, জনপ্রশাসন সংস্কার এবং কার্যকর জবাবদিহি (Effective Accountability) নিশ্চিত না করে কেবল বেতন বৃদ্ধি করলে তা আসলে ‘দুর্নীতির প্রিমিয়াম’ (Premium for Corruption) হিসেবে কাজ করবে। জনগণের করের টাকায় (Taxpayers’ Money) বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের সেবা প্রদানের অনীহা এবং অনিয়ম দূর না করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের প্রতি অবিচার হবে। টিআইবির মতে, বেতন বৃদ্ধির আগে সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব (Annual Asset Declaration) জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা উচিত।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি: ইসি মাছউদ

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসার পরপরই বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে:

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি (Hike in Commodity Prices): অসাধু ব্যবসায়ীরা বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

মূল্যস্ফীতি (Inflation): বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় (Cost of Living) হু হু করে বাড়ে।

বেসরকারি খাতের সংকট (Private Sector Crisis): সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতে কর্মরত বিশাল জনগোষ্ঠী এবং দিনমজুরদের আয় বাড়ে না। ফলে আয় বৈষম্য (Income Inequality) আরও প্রকট হয়।

সরকারকে কেবল আমলাতান্ত্রিক তোষণ (Bureaucratic Appeasement) নীতিতে না হেঁটে জনস্বার্থকে (Public Interest) অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির পূর্বশর্ত হিসেবে নিচের পদক্ষেপগুলো জরুরি:

১. প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা (Institutional Transparency): দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে ডিজিটাল সিস্টেম জোরদার করা।

২. সম্পদের হিসাব (Asset Statement): প্রতি বছর সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা।

৩. বাজার নিয়ন্ত্রণ (Market Control): বেতন বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিম্নআয়ের মানুষকে বাঁচাতে কঠোর বাজার মনিটরিং।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতির জন্য ‘বড় ঝুঁকি’ হতে পারে পে-স্কেল: টিআইবি

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
167

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল (New Pay Scale) ঘোষণা বা বেতন বৃদ্ধি (Salary Hike) নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় (Revenue Income) এবং বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবতায় এই মুহূর্তে নতুন পে-স্কেলের উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)। সংস্থাটির মতে, ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার (Administrative Reform) এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে বেতন বাড়ানো হলে তা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি (Major Economic Risk) হয়ে দাঁড়াতে পারে।

টিআইবি (TIB) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, জনপ্রশাসন সংস্কার এবং কার্যকর জবাবদিহি (Effective Accountability) নিশ্চিত না করে কেবল বেতন বৃদ্ধি করলে তা আসলে ‘দুর্নীতির প্রিমিয়াম’ (Premium for Corruption) হিসেবে কাজ করবে। জনগণের করের টাকায় (Taxpayers’ Money) বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের সেবা প্রদানের অনীহা এবং অনিয়ম দূর না করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের প্রতি অবিচার হবে। টিআইবির মতে, বেতন বৃদ্ধির আগে সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব (Annual Asset Declaration) জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা উচিত।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি: ইসি মাছউদ

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসার পরপরই বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে:

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি (Hike in Commodity Prices): অসাধু ব্যবসায়ীরা বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

মূল্যস্ফীতি (Inflation): বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় (Cost of Living) হু হু করে বাড়ে।

বেসরকারি খাতের সংকট (Private Sector Crisis): সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতে কর্মরত বিশাল জনগোষ্ঠী এবং দিনমজুরদের আয় বাড়ে না। ফলে আয় বৈষম্য (Income Inequality) আরও প্রকট হয়।

সরকারকে কেবল আমলাতান্ত্রিক তোষণ (Bureaucratic Appeasement) নীতিতে না হেঁটে জনস্বার্থকে (Public Interest) অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির পূর্বশর্ত হিসেবে নিচের পদক্ষেপগুলো জরুরি:

১. প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা (Institutional Transparency): দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে ডিজিটাল সিস্টেম জোরদার করা।

২. সম্পদের হিসাব (Asset Statement): প্রতি বছর সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা।

৩. বাজার নিয়ন্ত্রণ (Market Control): বেতন বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিম্নআয়ের মানুষকে বাঁচাতে কঠোর বাজার মনিটরিং।