নির্বাচন ঘিরে ভুয়া সংবাদ: তৈরি হচ্ছে সংঘাতের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০২:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 281
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়ানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ডিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর হার ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এ বিষয়ে সচেতন না হয়, তাহলে ভোটের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিসমিসল্যাবের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে চাঁদপুরের একটি হত্যা মামলার সাজা সংক্রান্ত সংবাদকে গত সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এসময় বিভিন্ন মূল ধারার গণমাধ্যমের লোগো নকল করে তৈরি করা ফটোকার্ডে পুরো ভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করা হয়। একইভাবে, গত সোমবার জামায়াত আমিরের একটি হ্যাক হওয়া একাউন্ট সংক্রান্ত ঘটনায় ডিবি প্রদত্ত বক্তব্যকে বিকৃত করে ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেয়া হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামও ব্যবহার করে ভুয়া সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে।
আমরা বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না: জামায়াত আমির
ডিসমিসল্যাবের তথ্যমতে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভুয়া খবর ছড়ানোর হার বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের কারণে যাচাই-বাছাই করার সুযোগও সীমিত হয়ে এসেছে। এসব ইনফ্লুয়েন্সারের ছড়ানো তথ্য সমাজে প্রতিনিয়ত প্রতিহিংসা ও ঘৃণা তৈরি করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘দুটি দল ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। মিছ ইনফর্মেশন বা ডিসইনফর্মেশন পাঠানোর কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। সেই ক্ষোভের ফলেই দিন দিন সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
দেশের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যমও পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, বলছেন দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির। তিনি বলেন, ‘সামনে আসন্ন নির্বাচনকে একপক্ষীয় দেখাতে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নয় এমন ভাব তৈরি করতে একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতীয় মিডিয়া প্রায় দুইশোর মতো সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর বেশির ভাগই সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ক, যা বাস্তবে নির্বাচন উপলক্ষে বেড়ে যায়নি।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের ভুয়া সংবাদ নির্বাচনের সময় আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং মূল ধারার গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।






















হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু