‘ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, তিনি আতঙ্কে রয়েছেন’
- আপডেট সময় : ০৫:২২:০৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
- / 73
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মারফি বলেন, ‘ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং তিনি এখন আতঙ্কে রয়েছেন।’
তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং তা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
মারফি এই অভিযানকে ‘ট্রাম্পের পাগলাটে যুদ্ধ’ বলেও আখ্যা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।
এদিকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘‘ট্রাম্প নিজেই নিজের জন্য ‘ইরান যুদ্ধ’ নামের একটি খাঁচা তৈরি করেছেন এবং এখন তিনি সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এটিই এখন তার চরম হতাশার কারণ।’’
একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।
বিপর্যস্ত ট্রাম্প অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ন্যাটোর পাশে আর না দাঁড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে। তবে শুক্রবার ‘যুদ্ধে সামরিক বিজয় অর্জিত হয়েছে’ বলে তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন; বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নির্বোধ’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প এখন নিজের শুরু করা এই যুদ্ধের ফলাফল কিংবা এর প্রচার; কোনোটিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। যুদ্ধের কোনও সুনির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা না থাকায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার দলের ভবিষ্যৎ; উভয়ই ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখা নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে ট্রাম্প এখন উভয় সঙ্কটে পড়েছেন এবং তিনি কোন পথে এগোবেন সেটির কোনও পরিষ্কার রূপরেখা কিংবা ইঙ্গিত নেই।
তিনি সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং মার্কিন অভিযান আরও তীব্র করতে পারেন। এমনকি খারগ দ্বীপে ইরানের তেল কেন্দ্র দখল অথবা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্রের খোঁজে ইরানের উপকূল বরাবর সৈন্য মোতায়েন করতে পারেন। কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দায়বদ্ধতার ঝুঁকি থাকবে, যার বিরোধিতা করবে মূলত মার্কিন জনগণ।
অথবা, যেহেতু উভয় পক্ষই আপাতত আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে, ট্রাম্প বিজয় ঘোষণা করে সরে আসার চেষ্টা করতে পারেন। এতে উপসাগরীয় মিত্ররা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কারণ তাদের সামনে থাকবে এক আহত ও বৈরী এমন এক ইরান; যে দেশটি তখনও অপরিশোধিত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে এবং উপসাগরে নৌচলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করেছে।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ট্রাম্প এখন সংবাদপ্রবাহ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ কেন তিনি দেশকে যুদ্ধে জড়ালেন এবং এর শেষ কোথায়; সেটি তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না।























শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষ, আসামি হচ্ছেন যারা