ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় বাসডুবি: ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 66

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটি আস্তে আস্তে টেনে তোলা হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে বাসটির সামনের অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে উপরে তোলা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি ৮০ ফুট পানির নিচ থেকে উদ্ধাকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে তোলা হয়। একের পর এক মরদেহ বের করতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার কাজ চলছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বাসটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে চালক ও হেল্পারও ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়। এতে কুমারখালী থেকে শিশুসহ আট জন যাত্রী উঠেছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়িটি উল্টে নদীতে পড়ে যায়।

দৌলতদিয়ায় নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা ঈদের ছুটি কাটিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

খোকসা থেকে বাসে ওঠেন দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী এবং ছেলে ইসরাফিল (৩), যিনি এখনও নিখোঁজ।

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস) আরও ওই বাসে ছিলেন। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী আয়েশা ও সন্তান আরশান নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও এখনো পানির নিচে রয়েছে।

সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী কাউন্টার মাস্টার তন্বয় আহমেদ জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৬টি সিটে শিশুসহ ৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়। খোকসা থেকে আরও ৩ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন, পাংশা থেকে ১৫ জন ও চালক-হেল্পারসহ মোট ৫০ জন ছিলেন। ৪০ সিটের বাসে অতিরিক্ত যাত্রী থাকা এবং ব্রেক ফেল করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।

তদন্ত কমিটি গঠন
যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসকে সদস্য সচিব করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ সহকারী পরিচালক।

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পদ্মায় বাসডুবি: ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০১:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটি আস্তে আস্তে টেনে তোলা হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে বাসটির সামনের অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে উপরে তোলা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি ৮০ ফুট পানির নিচ থেকে উদ্ধাকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে তোলা হয়। একের পর এক মরদেহ বের করতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার কাজ চলছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বাসটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে চালক ও হেল্পারও ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়। এতে কুমারখালী থেকে শিশুসহ আট জন যাত্রী উঠেছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়িটি উল্টে নদীতে পড়ে যায়।

দৌলতদিয়ায় নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা ঈদের ছুটি কাটিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

খোকসা থেকে বাসে ওঠেন দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী এবং ছেলে ইসরাফিল (৩), যিনি এখনও নিখোঁজ।

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস) আরও ওই বাসে ছিলেন। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী আয়েশা ও সন্তান আরশান নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও এখনো পানির নিচে রয়েছে।

সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী কাউন্টার মাস্টার তন্বয় আহমেদ জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৬টি সিটে শিশুসহ ৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়। খোকসা থেকে আরও ৩ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন, পাংশা থেকে ১৫ জন ও চালক-হেল্পারসহ মোট ৫০ জন ছিলেন। ৪০ সিটের বাসে অতিরিক্ত যাত্রী থাকা এবং ব্রেক ফেল করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।

তদন্ত কমিটি গঠন
যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসকে সদস্য সচিব করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ সহকারী পরিচালক।

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।