ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, হাজারো মানুষ পানিবন্দি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। এতে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দেখা দিয়েছে যাতায়াত, কৃষিকাজসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ।

‎জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। নদীটির বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার পাশাপাশি জেলার মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার, বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।

‎চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।

‎এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার এসব এলাকা পরিদর্শন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন।

‎পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল আওয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহবুব হোসেন এবং নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়া, যাতায়াতে দুর্ভোগ, কৃষিকাজে সমস্যা ও অন্যান্য নানা সংকটের কথা কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, হাজারো মানুষ পানিবন্দি

আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। এতে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দেখা দিয়েছে যাতায়াত, কৃষিকাজসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ।

‎জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। নদীটির বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার পাশাপাশি জেলার মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার, বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।

‎চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।

‎এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার এসব এলাকা পরিদর্শন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন।

‎পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল আওয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহবুব হোসেন এবং নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়া, যাতায়াতে দুর্ভোগ, কৃষিকাজে সমস্যা ও অন্যান্য নানা সংকটের কথা কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।