ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দর্শক-সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 44

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি মনে করছে, বিশ্বকাপের যুক্তরাষ্ট্র পর্ব ফুটবলার, সমর্থক, সাংবাদিক, কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় অধিবাসী সবার জন্যই নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে সোমবার ৩৬ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা।

অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির জন্য পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছে। নতুন অভিবাসন নীতিও আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে।

দেশটির অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট (আইসিই) অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। যেখানে-সেখানে অবৈধ অভিবাসীর সন্ধান পেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনেসোটায় আইসিই’র গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।

জার্মানির বিপক্ষে হারের পর বরখাস্ত ঘানার কোচ

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, বিশ্বকাপ চলাকালে মানবাধিকার পরিস্থিতি সংকটজনক রূপ নিতে পারে এবং জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহর, স্টেডিয়াম বা পর্যটনকেন্দ্র যে কোনো স্থানে আইসিই অভিযান চালাতে পারে এবং তাদের হাতে গ্রেপ্তারের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। ফলে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে যাওয়া দর্শকদের জন্য এটি বিব্রতকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা স্টিভ ককবার্ন বলেন, এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে একাধিক ঝুঁকির বিষয় সামনে এসেছে। আট বছর আগে নিরাপদ ও সবার জন্য অংশগ্রহণযোগ্য বিশ্বকাপ আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই ব্যত্যয় ঘটছে। তার মতে, এখন শুধু বিদেশি দর্শকই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসন পুলিশের ভূমিকা কী হবে, তার স্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি স্টিভ ককবার্ন আরও বলেন, ফিফার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সুসম্পর্ক থাকলেও সংস্থাটিকে নিশ্চিত করতে হবে যে স্টেডিয়ামের আশপাশে অভিবাসন পুলিশের উপস্থিতি থাকবে না। একই সঙ্গে সেনেগাল, হাইতি ও ইরানের দর্শকদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বকাপকে ঘিরে মেক্সিকোতেও অতিরিক্ত এক লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে কানাডায় বড় শহরগুলো থেকে গৃহহীন মানুষদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দর্শক-সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ

আপডেট সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি মনে করছে, বিশ্বকাপের যুক্তরাষ্ট্র পর্ব ফুটবলার, সমর্থক, সাংবাদিক, কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় অধিবাসী সবার জন্যই নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে সোমবার ৩৬ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা।

অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির জন্য পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছে। নতুন অভিবাসন নীতিও আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে।

দেশটির অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট (আইসিই) অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। যেখানে-সেখানে অবৈধ অভিবাসীর সন্ধান পেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনেসোটায় আইসিই’র গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।

জার্মানির বিপক্ষে হারের পর বরখাস্ত ঘানার কোচ

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, বিশ্বকাপ চলাকালে মানবাধিকার পরিস্থিতি সংকটজনক রূপ নিতে পারে এবং জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহর, স্টেডিয়াম বা পর্যটনকেন্দ্র যে কোনো স্থানে আইসিই অভিযান চালাতে পারে এবং তাদের হাতে গ্রেপ্তারের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। ফলে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে যাওয়া দর্শকদের জন্য এটি বিব্রতকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা স্টিভ ককবার্ন বলেন, এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে একাধিক ঝুঁকির বিষয় সামনে এসেছে। আট বছর আগে নিরাপদ ও সবার জন্য অংশগ্রহণযোগ্য বিশ্বকাপ আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই ব্যত্যয় ঘটছে। তার মতে, এখন শুধু বিদেশি দর্শকই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসন পুলিশের ভূমিকা কী হবে, তার স্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি স্টিভ ককবার্ন আরও বলেন, ফিফার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সুসম্পর্ক থাকলেও সংস্থাটিকে নিশ্চিত করতে হবে যে স্টেডিয়ামের আশপাশে অভিবাসন পুলিশের উপস্থিতি থাকবে না। একই সঙ্গে সেনেগাল, হাইতি ও ইরানের দর্শকদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বকাপকে ঘিরে মেক্সিকোতেও অতিরিক্ত এক লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে কানাডায় বড় শহরগুলো থেকে গৃহহীন মানুষদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।