ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আবারও বুঝলাম বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ নেই’

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 5

কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা জানত, কাজটা সহজ হবে না। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেই উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে। বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দে এমন লড়াই উপহার দিয়েছে যে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২ এর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে স্কোরলাইন যতটা বলে, ম্যাচটি তার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল। দুবার এগিয়ে গিয়েও কোনো সময় স্বস্তিতে থাকতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। প্রতিবারই দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচে ফিরে এসেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ তাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয় এ কথার সত্যতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে এই ম্যাচে। একই সঙ্গে কেপ ভার্দের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষ মাঠে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কতটা সংগঠিত, লড়াকু ও শক্তিশালী দল।

ফিফা র‍্যাঙ্কিং কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কেপ ভার্দের তুলনা চলে না। জনসংখ্যার দিক থেকেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম ছোট রাষ্ট্রগুলোর একটি। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াইয়ে নামে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে রাখে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। আক্রমণেও ছিল ধারাবাহিকতা। ২৯তম মিনিটে সেই আধিপত্যের ফলও পায় দলটি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২০তম গোল এবং চলতি আসরে সপ্তম।

তবে মেসির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও সাহসী হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তারা দুবার সমতায় ফেরে। প্রতিবারই মনে হয়েছে ম্যাচটি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

কঠিন সেই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা। অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই লড়াকু মানসিকতাকেই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি।

আর্জেন্টিনা কোচের ভাষায়, কঠিন মুহূর্তে ইতিবাচক দিক খুঁজে নিতে হয়। তার মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তারা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না। ম্যাচ যত কঠিনই হোক, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা দলটির মধ্যে রয়েছে।

কেপ ভার্দের কঠিন বাধা পেরিয়ে এখন শেষ ষোলোর দিকে নজর আর্জেন্টিনার। পরের প্রতিপক্ষ মিসর, যারা একই রাতে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দু’দল।

তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় আর্জেন্টিনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষের নাম বা র‍্যাঙ্কিং নয়, মাঠের লড়াইটাই আসল। আর সেই বাস্তবতা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে স্কালোনির দল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘আবারও বুঝলাম বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ নেই’

আপডেট সময় : ১২:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা জানত, কাজটা সহজ হবে না। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেই উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে। বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দে এমন লড়াই উপহার দিয়েছে যে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২ এর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে স্কোরলাইন যতটা বলে, ম্যাচটি তার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল। দুবার এগিয়ে গিয়েও কোনো সময় স্বস্তিতে থাকতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। প্রতিবারই দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচে ফিরে এসেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ তাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয় এ কথার সত্যতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে এই ম্যাচে। একই সঙ্গে কেপ ভার্দের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষ মাঠে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কতটা সংগঠিত, লড়াকু ও শক্তিশালী দল।

ফিফা র‍্যাঙ্কিং কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কেপ ভার্দের তুলনা চলে না। জনসংখ্যার দিক থেকেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম ছোট রাষ্ট্রগুলোর একটি। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াইয়ে নামে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে রাখে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। আক্রমণেও ছিল ধারাবাহিকতা। ২৯তম মিনিটে সেই আধিপত্যের ফলও পায় দলটি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২০তম গোল এবং চলতি আসরে সপ্তম।

তবে মেসির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও সাহসী হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তারা দুবার সমতায় ফেরে। প্রতিবারই মনে হয়েছে ম্যাচটি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

কঠিন সেই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা। অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই লড়াকু মানসিকতাকেই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি।

আর্জেন্টিনা কোচের ভাষায়, কঠিন মুহূর্তে ইতিবাচক দিক খুঁজে নিতে হয়। তার মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তারা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না। ম্যাচ যত কঠিনই হোক, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা দলটির মধ্যে রয়েছে।

কেপ ভার্দের কঠিন বাধা পেরিয়ে এখন শেষ ষোলোর দিকে নজর আর্জেন্টিনার। পরের প্রতিপক্ষ মিসর, যারা একই রাতে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দু’দল।

তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় আর্জেন্টিনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষের নাম বা র‍্যাঙ্কিং নয়, মাঠের লড়াইটাই আসল। আর সেই বাস্তবতা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে স্কালোনির দল।