হতাশার ড্রয়ে শুরু পর্তুগালের বিশ্বকাপ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 26
যে দুই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে বিশ্ব দুভাগে বিভক্ত, তাদের একজন মেসি বুধবার তাঁর ভক্তদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইস্টোনকে স্মরনীয় করে রেখেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকে উঠে গেছেন অন্য উচ্চতায়। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যার (১৬ গোল) এভারেস্টে থাকা মিরোস্লাভ ক্লোজকে ছুঁয়েছেন।
১৬ ঘন্টা আগে মেসির এই ইতিহাস রচনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জিদ চাপিয়ে দিয়েছে বলে ধরে নিয়েছিলেন রোনালদো ভক্তরা। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল ফরোয়ার্ডের দিকে চোখ ছিল সবার। তবে ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের বন্যা বইয়ে দেয়া রোনালদো বৈশ্বিক ফুটবল মঞ্চে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি অতীতে, এবারও শুরুটা তার হতাশায়।
ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে রোনালদোর পায়ে গোল দেখতে হিউস্টন স্টেডিয়ামে হাজির ৬৮ হাজার ৭৭৭ জন দর্শক তার নিষ্প্রভ ভুমিকা দেখে বিস্মিত। আগের ৫টি বিশ্বকাপে সর্বমোট ৮টি গোলের মধ্যে ব্রাজিল বিশ্বকাপ ( ৪ গোল) বাদ দিলে অন্য ৪টি আসরের প্রতিটিতে ১টি করে গোলে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে এই গোল মেশিনকে। কঙ্গোর মতো সহজ প্রতিপক্ষকে পেয়েও রোনালদোকে দেখা যায়নি পরিচিত রূপে। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে পর্তুগালের প্রধান ফরোয়ার্ড রোনালদো। অথচ, পর্তুগাল মিড ফিল্ডার কিংবা ফরোয়ার্ড পজিশনের খেলোয়াড়রা গোলের উৎস তৈরি করে দেননি রোনালদোকে। পজিশন পরিবর্তন করে পেছনে এসে গোলের উৎস নিজেও তৈরি করেননি এই পর্তুগীজ অধিনায়ক। ফলে কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে পর্তুগাল।
বল দখলের নিয়ন্ত্রন দিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়না, দরকার স্কোর। ৭৪.৪% বলের নিয়ন্ত্রন এবং ৯২.৫% নিখুঁত পাস দিয়েও তাই অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পর্তুগাল।
খেলার ৬ মিনিটের মাথায় পেড্রো নেটোর ক্রস থেকে লিওনেল ম্পাসিকে পরাস্ত করে বুলেট হেডারে বল জালে পাঠিয়ে বড় জয়ের আভাস দিয়েছিলেন জোয়াও নেভেস (১-০)। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের শেষ মুহুর্তে বিশ্বকাপে কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোলটি করেছেন ইয়োয়ানে উইসা। আর্থার মাসুয়াকুর কর্নার থেকে স্পট জাম্প করে সাইড হেডে সমতাসূচক গোল করেন উইসা (১-১)।
দ্বিতীয়ার্ধে কুলিং ব্রেকের পর রোনালদো পেয়েছিলেন দুবার বল। তবে ৬৮ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সিসকো ক্যানসেইকাওয়ের কাট-ব্যাক পাসটিকে কাজে লাগাতে পারেননি রোনালদো। ৮৮ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমন থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বক্সে একটি পাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু পাসটি আসেনি তার পায়ে। গনসালো রামোসের শটটি কঙ্গো গোলরক্ষক প্রতিহত করলে রোনালদোর আশায় গুড়েবালি হয়। নিজের শেষ বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতে রাঙিয়ে আর্জেন্টিনাকে দেখিয়েছেন মেসি শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার স্বপ্ন। সেখানে ৫ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো ড্র দিয়ে, তাও আবার র্যাঙ্কিংয়ে ৪৬ নম্বর দলের বিপক্ষে। তাহলে কি বিশ্বকাপে অপূর্ণতা থেকে যাবে রোনালদোর ? এমন কিছুর শঙ্কাই যে করছে রোনালদো ভক্তরা।

























পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই