ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতি হতো গাজার মতো: পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 35

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তেহরান কোনও অবস্থাতেই আলোচনা করবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই তার এই মন্তব্য সামনে এলো।

সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া বলছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়ী অবসান খুঁজতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের আত্মরক্ষার জন্য যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। তারা বৃদ্ধ বা শিশু— কাউকেই রেহাই দিত না’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনও পরিস্থিতিতেই, কারও সঙ্গে, কখনোই আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করব না।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে কোনও কথাই উল্লেখ নেই।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলার শুরু করে। এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানও পাল্টা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলো এবং ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে। মূলত ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণ করতে ইরান প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। এরপর থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতা আরও বেড়েছে।

ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব থাকে, তাহলে তাদের (ইরানের) কিছুটা সক্ষমতা থাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়তো খুব একটা ন্যায্য নয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতি হতো গাজার মতো: পেজেশকিয়ান

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তেহরান কোনও অবস্থাতেই আলোচনা করবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই তার এই মন্তব্য সামনে এলো।

সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া বলছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়ী অবসান খুঁজতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের আত্মরক্ষার জন্য যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। তারা বৃদ্ধ বা শিশু— কাউকেই রেহাই দিত না’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনও পরিস্থিতিতেই, কারও সঙ্গে, কখনোই আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করব না।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে কোনও কথাই উল্লেখ নেই।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলার শুরু করে। এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানও পাল্টা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলো এবং ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে। মূলত ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণ করতে ইরান প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। এরপর থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতা আরও বেড়েছে।

ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব থাকে, তাহলে তাদের (ইরানের) কিছুটা সক্ষমতা থাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়তো খুব একটা ন্যায্য নয়।’